মোশাররফ হোসেন ইউসুফের গুচ্ছ কবিতা
প্রকাশ: ০২:২৫, ২০ নভেম্বর ২০২৫
তুমি এলে না
সেই যে রেখে চলে গেলে
মধুমতীর খরস্রোতা বাঁকে
এক নিঝুম সন্ধ্যা-রাতে
ফিরে আসবে বলেই গেলে
আষাঢ় কিংবা শ্রাবণের শেষে
দেড় কুড়ি বছর আর
ত্রিশটি বসন্তের সব ক'টি
প্রহর উবে গেলো ঊর্ধ্বশ্বাসে
দূর গগনে রাতের তারকারা খেলে
ঘরের পেছনের ঝুলে পড়া সে গাছটি
খুবই বৃদ্ধ এখন, নিবু নিবু জীবন তার
তবুও ফাগুনে বসে তার বুকে
একজোড়া আশাবাদী কোকিল
ওরা গান করে কুহু কুহু
আমি এখনো যাই সেই মধুমতীর চর
তুমি এলে না আর বাঁধন খুলে দিতে
দিন কাটে দুপুরের তর্জন গর্জনে
নিশিতে শুনতে পাই নদীর উহু উহু।
দেশরক্ষায় নামুন আপনিও
প্রাণান্তকর লড়াইয়ের মাধ্যমে হলেও
মাতৃভূমি বাংলার শরীর অক্ষত রাখতে
আপনিও যোগ দিন মায়ের আঁচল রক্ষায়।
আর পিছে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসবেন না
এবার আবার হাতিয়ার তুলে নিন
দেশ রক্ষার যুদ্ধে, জন্মভূমির দেহ রক্ষার
শেষ যুদ্ধে, শেষ পোল পার হতে রক্ত দিয়ে
কেউ ঘরে কেউ চরে নয়, রক্তের হাতে
ভক্তের শক্তি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন মাঠে
দেশ এখন বাঙালি নয়, বেনিয়ার হাতে!
সেন্টমার্টিনের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
চট্টগ্রাম বন্দর পরহস্তে হস্তান্তর
মানবিক করিডোরে সীমান্ত ছারখার
অস্ত্রোপচার সাধ্যের চাপে সংবিধান
গার্মেন্ট শিল্পের উৎপাদন নাড়িছিঁড়ে মিচমার
কী নিয়ে বাঁচবে হাজার বছরের বাঙালি
এবার জেগে ওঠো সমহিমায় বাঙাল সন্তান
বাঁচাও মায়ের ইজ্জত, রক্ষা করো আত্মসম্মান
হঠাও বর্গি ধনুকবাজ মহাজন।
জনতা খুলে নেবে পিন
আমি কি কোনো দিন কোনো ক্ষণে
তোমাদের তরে হেন কোনো অপরাধ
বড় কোনো বিবাদ বিসংবাদ কিংবা
ইমানি খেলাপের দায়ে মিথ্যের ঝুলি
কাঁধে তুলে দিয়েছিলাম নিশ্চুপ নিঃশ্বাসে?
কেন তবে হননের বেড়াজালে বানোয়াট
মশারীর বুটিচালে বিভুঁইয়ে পাঠিয়ে দিয়ে
দায়ে চেপে কাঁদালে সাধারণে প্রতিজনে
কেন কাঁদালে অবুঝ শিশুরে বাবা হারানোর
আত্মতৈরি মিথ্যে অজুহাতের ধুয়া তুলে!
কেন নাচালে পুতুলের খেলা ফেলে আসা
শৈশবী বাগপটু অপোক্ত শিশুর হাতের মুঠোয়
তখতের আয়েসি শক্তিধর চাবুকের চাবি দিয়ে
কেন ধ্বংসের শিঙ্গায় বাজিয়ে শানাইয়ের সাইরেন
কেন ভাঙালে দরগাসেবিদের পুরোনো আশ্রম!
কেন দিবসের নিয়ম ভেঙে কেড়ে নিলে অনায়াসে
স্মৃতিবাহীদের আত্মমর্যাদার নির্দিষ্ট তারিখনামা
কেন কুকুরতাড়া করে ভাগালে ইউপি-উপজেলা
জেলা-নগর-বিভাগের সমর্থনী সেবাকারীদের
জনসমর্থনী অধিকারী দলিলনামা!
মার্জার হয়েছে বাঘিনীর পিসাতো বোন আপন
সারমেয় দাঁড়িয়েছে সিংহের চামড়া গায়ে পরে
আদলি সেপাহসালার তাড়িয়ে পাঠ্যশিশুদের হাতে
দিয়েছো নগরের চলাচল নীতিমালা অর্পণ করে
তারা কি পথ চিনে যানের নিয়মে চলতে পারে!
প্রজাপতি সেজে ধরেছো প্রজাদের লাগাম টেনে
পুকুরচুরি এখন সাগরচুরিকে বাস্তবতা দিয়েছে
রাহাজানি মেতেছে জীবন নাশের হোলিতাণ্ডবে
পাখিদের সমাজ ভেঙে নামিয়েছো মানুষের অন্ন
বস্ত্র বাসস্থানের গলিপথ চলাচলের হালট পথে!
তেলছাড়া সবজি জমায় না রন্ধনরসিকার মন
বাজারের স্বাদ নিতে নাক ঘামায় শ্রমিকজনে
স্বচ্ছতার অলঙ্কারে চলনে ভীতকম্পমান ষোড়শী
রাস্তায় জমে না কুকুরের খাবারের তলানিসম্পদ
তবে কী এমন করলে স্বাধীন প্রাপ্তস্বাধীন দেশটিকে!!
আমি কাটিয়ে দেবো অবশিষ্ট স্বল্পস্বর প্রবাস জীবন
তুমিও খসে পড়বে তুরুপের তাসের আদালে সময়ে
পারিবারিক সখ্য ভেঙে যাবে অধীর কামনার প্যাঁচে
জ্বলবে তুমিও চুরুটের আনলের মতো করে একদিন
তাতে শোধ হবে কি ঋণ, জনতা খুলে নেবে কোটিপিন!
