‘আর.ভি ড. ফ্রিডটজফ নানসেন’ জরিপ
বঙ্গোপসাগরে ৬৫ নতুন প্রজাতির মাছ, বাংলাদেশ অংশেই ৫ প্রজাতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:১২, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
বঙ্গোপসাগরে ৬৫ নতুন প্রজাতির মাছ, বাংলাদেশ অংশেই ৫ প্রজাতি। ছবি: মৎস্য মন্ত্রণালয়
বঙ্গোপসাগরে ৬৫টি নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান মিলেছে। তারমধ্যে ৫টি প্রজাতি শুধু বঙ্গোপসাগরেই দেখা গেছে। এসব প্রজাতি বিশ্বের অন্য কোন সাগরে নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
‘ড. ফ্রিডটজফ নানসেন; জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ জরিপটি ছিল ২০১৮ সালের পর বাংলাদেশে পরিচালিত দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ মেরিন ইকোসিস্টেম জরিপ।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত গবেষণা জাহাজ ‘আর.ভি ড. ফ্রিডটজফ নানসেন’ এর এই জরিপের প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের।
জরিপের বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, নরওয়ে সরকার ও এফএও-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা ও আধুনিক জরিপ পদ্ধতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সচিব বলেন, ২০১৮ সালের ড. ফ্রিডটজফ নানসেন জরিপ বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক ছিল। সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর আমাদের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের প্রথম আধুনিক ও ইকোসিস্টেমভিত্তিক মূল্যায়ন সে জরিপই প্রদান করে, যা ভবিষ্যৎ গবেষণা ও ব্যবস্থাপনার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
তিনি আরো বলেন, উন্মুক্ত আলোচনায় দেওয়া সকল সুপারিশ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সচিব জানান, জরিপে বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ, পরিবেশদূষণসহ নানা কারণে মাছসহ অন্যান্য সামুদ্রিক জীবসংকটে পড়েছে। এ থেকে উত্তরণে সম্মিলিত প্রয়াস এখনই দরকার।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রয়্যাল নরওয়েজিয়ানের রাষ্ট্রদূত হোকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন ও বাংলাদেশে এফএও প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি।
গবেষণা জাহাজ ড. ফ্রিডটজফ নানসেন (ডিএফএন) মিশন বিষয়ক প্রযুক্তিগত ব্রিফিং করেন নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন রিসার্চ (আইএমআর) -এর বিভাগীয় প্রধান এবং জরিপর ক্রুজ লিডার ড. এরিক ওলসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের প্রফেসর এবং টিম লিডার সাইদুর রহমান চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এবং সহ-ক্রুজ লিডার ড. মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন।
এফএও বাংলাদেশের জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী এবং ডিএফএন জরিপ ২০২৫ -এর ফোকাল পয়েন্ট ড. মো. আবুল হাসানাত এসময় স্বাগত বক্তব্য করেন।
