১ ডিসেম্বর থেকে রাত্রে থাকা যাবে সেন্টমার্টিনে
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪:৩১, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
পর্যটককেন্দ্র সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন করতে পারবেন পর্যটকরা। ছবি: সমাজকাল
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশের পর্যটককেন্দ্র সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন করতে পারবেন পর্যটকরা। ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জাহাজ মালিক, সেন্টমার্টিন ব্যবসায়ীসহ প্রশাসন। তবে সেখানে যেতে মানতে হবে ১২টি নির্দেশনা। প্রতিদিন দ্বীপটিতে যেতে পারবেন সর্ব্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক।
এর আগে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারী থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। সেই থেকে দ্বীপে ভ্রমন বন্ধ ছিল।
গত ১ নভেম্বর থেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সরকার। কিন্তু দিনে গিয়ে দিনে ফেরার শর্তে মানতে অস্বীকৃতি জানান জাহাজ মালিকরা। ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে। দ্বীপে যেতে পারেন না পর্যটকরা।
জাহাজ মালিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাতের কারণে ২০২৩ সাল থেকে টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরপর মেরিনড্রাইভ সড়কের ইনানীর নৌবাহিনীর জেটিঘাট দিয়ে জাহাজ চলাচল করেছিল। গত বছর থেকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ’র জেটিঘাট থেকে সাগরপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে আসছে।
চলতি বছরও একই ঘাট থেকে জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম। তিনি জানান, সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার নৌরুটে চলাচলের জন্য এর মধ্যে এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামের চারটি জাহাজ জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি পেয়েছে। তবে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, গত পর্যটন মৌসুমেও ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে এক লাখের বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছেন। এ বছরও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে দুই মাসে গত বছরের মতো পর্যটক ভ্রমণে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মানতে হবে ১২ নির্দেশনা
নভেম্বর থেকে জানুয়ারি (তিনমাস) সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ১২টি নির্দেশনা আরোপ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১. বিআইডব্লিউটিএ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচল করা যাবে না।
২. পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে।
৩. পর্যটকদের ভ্রমণের সময় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪. কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়–বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবেনা।
৫. সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
৬. পর্যটকদের ভ্রমণকালে নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বহন করতে পারবে না। ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
দ্বীপে ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করা যাবে না। এ জন্য নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ও সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, দ্বীপটিতে প্রথম দিন ভ্রমনের এখনো (দুপুর দেড়টা) পর্যন্ত সাড়ে ১২ শ পর্যটক সরকারীভাবে নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধন ছাড়া কারো দ্বীপ ভ্রমনের সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।
