সীমান্ত হত্যার সমাধান আপাতত দেখছি না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:৩২, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
সীমান্ত হত্যার সমাধান আপাতত দেখছি না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চলমান হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “বাংলাদেশ-ভারত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে মানুষ গুলি করে মারা হয়। এর কোনও সমাধান আপাতত আমি দেখছি না।”
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টকে ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রাসঙ্গিক ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় সীমান্ত হত্যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এমনকি আমাদের কিছু কর্মকর্তা একসময় সীমান্ত হত্যাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছেন। অপরাধ হলে বিচার হওয়ার কথা কোর্টে। কিন্তু এখানে অভিযোগকারী, বিচারক আর হত্যাকারীর ভূমিকা একই হাতে চলে যাচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ জানাই, প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি—এ ছাড়া আর কী করা যায় বলেন?”
তিনি আরও বলেন, “যদি এর বাইরে কোনও বাস্তবসম্মত উপায় থাকে, আমাকে জানালে আমি চেষ্টা করবো।”
পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “২০০৯ সালের আগে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, তার কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে পরবর্তী ১৫ বছরে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল। আমরা শুধু স্বাভাবিক সম্পর্কই চাই— অতিরিক্ত কিছু নয়।”
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের আমদানি-রফতানিতে বিকল্প উৎস থাকা তো আমাদের স্বার্থেই আসে। পাকিস্তান থেকে তুলা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা সম্ভব। সংকটের সময় বিকল্প সোর্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ।”
পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতি ও বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের চারপাশে নীতিগত পরিবর্তন হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন এসেছে, মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। পৃথিবী এখন এক ধরনের গ্লোবাল নেইবারহুড। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “সব বিষয়ে একমত হওয়ার কথা নয়। পরিবর্তনে তাদের কিছুটা সময় লাগছে। আমরা ভালো সম্পর্কের পক্ষে অটল আছি।”
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে বলে আমরা জানি। বড় কোনও নীতিগত পরিবর্তন এ সময়ের মধ্যে আশা করছি না। আমরা ভিত্তি তৈরি করে যাচ্ছি; নতুন সরকার এ ভিত্তির ওপর নীতি নির্ধারণকে সহজ মনে করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা একটি অন্তর্বর্তী সরকার। বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পরবর্তী সরকারের।”
