শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার
‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—লেজুরবৃত্তি নয়, নৈতিকতা-সমৃদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ চাই’
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২:১১, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সি আর আবরার শিক্ষাঙ্গনে শুদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনীতির অপপ্রভাব বন্ধের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি, কারণ রাজনীতির অযাচিত প্রভাব শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
শনিবার ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সি আর আবরার বলেন,“শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আমরা দিতে পারিনি। ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চেষ্টা করছে।”
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর ভাতা শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু পূর্বের ‘স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থাপনা’ এই তহবিলকে জটিলতায় ফেলেছে।
তিনি বলেন, “যে ব্যাংকে টাকা রাখা হয়েছিল, সেখানে এখন অর্থ নেই। এ অবস্থায় আমাদের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে আমরা সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।”
শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, মানবিক মূল্যবোধ শেখানোর তাগিদ দেন সি আর আবরার।
তিনি বলেন,“শিক্ষকরা আঁধারে আলো জ্বালান। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখাতে হবে। যাতে তারা দেশ, সমাজ ও বিশ্বকে কিছু দিতে পারে।”
শিক্ষকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে কঠোর সুরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন,“উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রাজনীতি কীভাবে পরিবেশ নষ্ট করেছে, তা আমরা সবাই জানি।
রাজনীতি করতে চাইলে করবেন—কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির বিষাক্ত ছায়ায় ফেলবেন না। শিক্ষকদেরই এই পরিবেশ রক্ষায় সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে বলেন—“সরকারকে যারা চুষে খায়, আইন-কানুনকে বিকৃত করে অর্থ আদায় করে—দুদকের নজর মূলত তাদের ওপরই।”
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরেক ধাপ কঠোর সতর্কতা দেন, “রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি করবেন না। এতে লাভ আছে, কিন্তু একজন প্রকৃত শিক্ষক হওয়া যায় না। লেজুরবৃত্তি না করলে আপনারা ভালো থাকবেন।” এছাড়া তিনি বলেন—“শিক্ষকদের কাছ থেকেই ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদরা ভাষা শেখে। তাই স্নিগ্ধ ভাষার চর্চা জরুরি।”
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন—মাউশি ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ফকির মইনুদ্দিন,ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ফকীর মোহাম্মদ বি এম আব্দুল হান্নান,যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এ বি এম সাত্তার ,অধ্যাপক রিজভী জামান, অধ্যাপক কাকলি মুখোপাধ্যায়সহ অন্য শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা।
বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের শতাধিক শিক্ষক এই সেমিনারে অংশ নেন।
