ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একমাসে গুলিতে মারা গেছেন ৩ জন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২:৪১, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একমাসে গুলিতে মারা গেছেন ৩ জন। ছবি: প্রতীকী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মাসে গুলিতে মারা গেছেন ৩জন। এই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে গুলিতে আহত হন এক বিএনপি নেতা। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার,খুনখারাপির এসব ঘটনায় এখন জেলা জুড়ে আতঙ্ক।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) গভীররাতে বাড়ি থেকে ডেকে এনে হত্যা গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেন(৩৭) কে। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় গুলাগুলির ঘটনা শুরু হয়। লায়ন শাকিল (শাকিল সিকদার) নামে উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ককে এলাকার মাদ্রাসা রোডে বন্দুক নিয়ে দৌড়াতে এবং গুলি করতে দেখা যায়।
আশপাশে লাগানো সিসিটিভিতে ধরা পড়ে এই দৃশ্য। তার ছুড়া গুলিতে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। তারা হচ্ছেন টুটুল মিয়া(৪৬), শিহাব উদ্দিন ওরফে শোয়েব (২৭) এবং মো: সানজু(২২)। তারা সবাই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপের সমর্থক। এর কয়েক ঘন্টা পর কান্দিপাড়ায় বাড়ির গেইটে মারধোর করা হয় রবিন নামে একজনকে। বাঁচাতে এসে রবিনের ছোট ভাই রিজনও হামলার শিকার হন।
এরপর গভীররাতে ছাত্রদলের সাবেক কর্মী সাদ্দাম হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে প্রধান আসামী করে ৭জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেয়া হয়। শাকিল এবং দিলীপের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে শহরের কান্দিপাড়া উত্তপ্ত ছিলো গত কয়েকদিন ধরে। গুলাগুলি,হত্যার ঘটনায় এখন আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার মানুষ।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন,এ ঘটনায় অবশ্যই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে ধরার।
গত ১ নভেম্বর (শনিবার) নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দিতে গনি শাহ’র মাজার সংলগ্ন একটি রেস্তোরায় বসে খাবার খাওয়ার সময় নূরজাহানপুর গ্রামের শিপন মিয়া(৩৮) কে লক্ষ্য করে গুলি চালায় স্থানীয় থোল্লাকান্দি গ্রামের রিফাত আহমেদ। এসময় রেস্তেরা কর্মচারী ইয়াছিন(২০) ও নূর আলম নামে আরো ২ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকায় হাসপাতালে মারা যান শিপন ও ইয়াছিন। র্যাব-৯ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের সদস্যরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রিফাত আহমেদ(২৫) ও তার সহযোগী লিমন মিয়া(১৯) কে ১০ নভেম্বর (সোমবার) একটি বিদেশী পিস্তল, দুইটি ম্যাগজিন এবং ৭ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে।
এরআগে ২৪ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবীনগর শহরের পশ্চিমপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মুকুল। দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে ৩টি গুলি করে। এসময় তার চিৎকারে আশপাশের দোকানীরা ছুটে গিয়ে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়। নবীনগরে গুলিতে এই ২ হত্যাকান্ড ছাড়াও গত ৩/৪ মাসে আরো কয়েকটি হত্যা ঘটনা ঘটে। লাউরফতেহপুর গ্রামে ঘর থেকে নিখোজ হওয়ার দু’দিন পর কলেজ ছাত্রী ফারজানা আক্তার জুইয়ের লাশ পাওয়া যায়।
বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে ১৬ই অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয় উমর হাসান(২৩) নামে এক যুবককে। পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে এই উপজেলায়। চুরির অভিযোগে সলিমগঞ্জ ফাড়িতে ধরে এনে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাহেরচর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ(২৭) কে নির্মম নির্যাতন করে পুলিশ। এতে সে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকার মানুষ উত্তেজিত হলে ওই পুলিশ ফাড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান,গত জুন মাসে মো: শাহিনূর ইসলাম নবীনগর থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। অবশ্য ওসি শাহিনূর ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম সমস্যা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
২৫শে অক্টোবর (শনিবার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুরে বল্লমের আঘাতে মো: নাসির উদ্দিন নামে একজন নিহত হন। আহত হন আরো ৩০ জন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি হারুনুর রশিদ ও ব্যবসায়ী সাচ্চু মিয়ার গোষ্ঠির লোকজনের বিরোধে হতাহতের ঘটনা ছাড়াও ৩০/৪০টি ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্নস্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ২৩শে নভেম্বর (রবিবার) সরাইলের দেওড়া গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আরফোজ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যাক্তি নিহত হন।
জেলার আইনশৃঙ্খলার এই হাল নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করছি।’
