অবৈধ আহরণে সমুদ্রে কমে যাচ্ছে মাছ: ফরিদা আখতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:০৪, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
সামুদ্রিক মাছের সংস্থান কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ছবি: মৎস্য মন্ত্রণালয়
অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত আহরণ এবং ক্ষতিকর জালের ব্যবহারের কারণে সামুদ্রিক মাছের সংস্থান কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সমুদ্র জরিপের ফলাফল বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ইকোসিস্টেম অ্যাপ্রোচ টু ফিজারিজ (ইএএফ) নানসেন সার্ভে-২০২৫ ফলাফল ও করণীয় বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার কারণে জরিপে দেখা গেছে— সামগ্রিকভাবে মাছের স্টক কমছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, ২৭৩টি শিল্প ট্রলারের মধ্যে ৭২টি ট্রলার সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তবে সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় অনাকাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা ও অপচয় বাড়ছে।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন,বঙ্গোপসাগরে কোথাও কোথাও অক্সিজেন কম ও আবার কোথাও অক্সিজেন স্বল্প অঞ্চল বৃদ্ধি, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উচ্চ ঘনত্ব এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক বিস্তার—এই সতর্ক সংকেতগুলো স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশ গুরুতর ঝুঁকির মুখে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “সাগর আমাদের অমূল্য সম্পদ, কিন্তু আমাদেরই অব্যবস্থাপনা তার ক্ষতি ডেকে আনছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের প্রাপ্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে।”
তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের লাইসেন্স প্রদান কঠোরভাবে সীমিত করা এবং ট্রলারভিত্তিক মৎস্য আহরণের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার তাগিদ দেন ।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সরকার সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার, গবেষক, বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সমন্বিত বৈঠক করা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু প্রতিবেদন গ্রহণ করে বসে থাকব না—দ্রুত করণীয় ঠিক করতে হবে। গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ নিয়ে আমাদের যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা অপরিহার্য।”
নরওয়ে সরকার ও এফএওকে ২০২৭/২০২৮ সালের পরবর্তী সমুদ্র জরিপে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মৎস্য উপদেষ্টা। পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব গবেষণা জাহাজ প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের।
