৮৩২ ভরি সোনার হিসাব-কিতাব!
প্রকাশ: ২১:৩৯, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১০:২৬, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
ডা. এ বি এম কামরুল হাসান
শোনা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা আর তার পরিবারের ব্যাংক লকার খুলতেই নাকি বেরিয়ে এসেছে সোনার পাহাড়। কত বড় পাহাড় জানেন? সোজা কথা—৮৩২ ভরি। বাবারে বাবা, এত সোনা কোনো পরিবারের ঘরে থাকে নাকি!
তার ওপর আবার এ সোনা বেশিরভাগই পুরোনো দিনের। দাদি, নানি, মা’দের গহনা। সঙ্গে আছে শেখ হাসিনা-রেহানার বিয়ের গহনা; শেখ কামাল আর শেখ জামালের স্ত্রীদের গহনাও আলাদা করে যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৯৮১ সালে সরকার তাদের যে গহনা ফেরত দিয়েছিল, সেই অঙ্ক ছিল ৫০৩ ভরি—সাতজন মিলে। মানে জনপ্রতি প্রায় ৭২ ভরি। যে পরিমাণ গহনা গড় বাঙালি পরিবারের স্বপ্নেও আসে না। এর সঙ্গে আবার ‘রাজপরিবারের’ আলাদা ঐতিহ্যের গহনা তো আছেই।
তারপর কেটে গেল ৪৪ বছর। ১৯৮১ থেকে ২০২৫। এই সময়ে পাঁচজন নতুন সদস্য—জয়, পুতুল, টিউলিপ, ববি, রুপন্তি (৫ জন) নিজেদের মতো করে গহনা যোগ করেছেন। আর শেখ হাসিনা-রেহানা (২ জন) ৪৪ বছরে একটাও নতুন কিছু কেনেননি, এমনটা ভাবার মতো সরল মানুষ আমরা নই!
এখন হিসাবটা একদম সহজে বলি, ৮৩২ ভরি থেকে আগের ৫০৩ বাদ দিলে দাঁড়ায় নতুন ৩২৯ ভরি। মোট সাতজনের (৫+২) গড় দাঁড়ায় জনপ্রতি প্রায় ৪৭ ভরি। আবারও বলছি, ৪৭ ভরি! এই দেশে যেখানে বেশিরভাগ মানুষের স্ত্রীর ঝুলিতে ৪ ভরি আছে কিনা সন্দেহ, সেখানে ৪৭ ভরি। তাহলে একজন বোনের মোট দাঁড়ায় উত্তরাধিকার+বিয়ের গহনা+৪৪ বছরের সঞ্চয়=১১৯ ভরি। অতএব কত্ত সোনা রে বাবা, কত্ত সোনা!
এবার যারা শেখ হাসিনাকে ‘ইমেলদা মার্কোস’ বানাতে উদগ্রীব, তারা আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার ঘরের বৌয়ের কাছে মোট কত ভরি সোনা আছে? সত্যি সত্যি বলবেন কিন্তু।
লেখক: প্রবাসী চিকিৎসক ও কলামিস্ট
* মতামত লেখকের নিজস্ব
