বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের একাংশের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭:২৬, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৮:০১, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের একাংশ ১১তম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে নেমেছেন।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) তারা কর্মবিরতি পালন করেছেন। একইসঙ্গে আগামীকাল সোমবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ব্যানারে রবিবার দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করা হয়।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম।
তিনি বলেন, “সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু। তবে আমরা পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার কর্মবিরতি চালিয়ে যাব। ১১তম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
নোয়াখালী সদর উপজেলার ত্রিপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই কর্মসূচি চলছে বলে জানিয়েছেন পরিষদের আরেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ। তিনি বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস অনুযায়ী ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন হয়নি, অন্যান্য দাবিরও অগ্রগতি নেই। তাই পূর্ণদিবস কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।”
অন্যদিকে গ্রেড ও পদোন্নতির জটিলতা নিরসনে ৩ দফা দাবিতে তিন দিন কর্মবিরতি পালন করা ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’র ব্যানারে কর্মবিরতিতে থাকা শিক্ষকদের আরেক অংশ রবিবার থেকে ক্লাসে ফিরেছেন।
সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনুর আল আমিন বলেন, “সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা। আমরা শিশুদের ক্ষতির মুখে ফেলব না।”
ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাঘাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে নেই বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, “১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। এরপর ১১ ডিসেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করব।”
এর আগে ৮ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ‘কলম বিরতি’ কর্মসূচি পালনের সময় শিক্ষকদের ওপর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান, লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কয়েকজন আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা পরদিন থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন।
পরে ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ১১তম গ্রেডে বেতন এবং অন্যান্য জটিলতা নিরসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।
তবে দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশ আবারও মাঠে নেমেছে।
