কুড়িগ্রামে দুই পরিবারের সংঘর্ষে তিনজন নিহত, আহত ১০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭:৩০, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
আহত অন্তত দশজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সমাজকাল
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পরিবারের সংঘর্ষে তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত অন্তত দশজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হতাহতরা উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ছিলাখানা ধনী গাগলা গ্রামের বাসিন্দা এবং চাচাতো ভাই সম্পর্কের দুই পরিবারের সদস্য। নিহতরা হলেন, মানিক উল্লাহ’র ছেলে এরশাদ আলী (৪২), মানিকের বোন ও খাদে হোসেনের স্ত্রী কুলছুম বেগম (৫৫) এবং জামাল উদ্দিনের ছেলে আলতাফ হোসেন (৫৫)। গুরুতর আহত পনির উদ্দিনের ছেলে সফিকুল ইসলাম (২৫), মর্জিনা বেগম (৪২), আজিজার রহমান (৪০) ও পারুল বেগমকে (৩২) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, মোফাজ্জল হোসেন (২৪) ও এরশাদের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগমকে (৩৫) কুড়িগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং নূর মোহাম্মদ ও তার বড় ভাইকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, আপন চাচাতো ভাই বছির উদ্দিনের ছেলে মানিক উল্লাহ ও নুর মোহাম্মদ এবং জামাল উদ্দিনের ছেলে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান প্রায় এক বছর আগে যৌথভাবে ১৮ শতক জমি কেনেন। এরপর এটি দখলে নেন মানিক উল্লাহ ও নুর মোহাম্মদ। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিটির দখল নিতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অন্যের ওপর হামলা চালায়। এতে একপক্ষের এরশাদ আলী ও কুলছুম ঘটনাস্থলেই এবং অন্যপক্ষের আলতাফ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুড়িগ্রামের নবাগত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়েছে। সংঘর্ষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিহত কুলসুম বেগমের ভাই ও এরশাদ আলীর পিতা মো. মানিক উল্লাহ’র অভিযোগ, প্রতিপক্ষরা লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ন্যায়বিচার চান তিনি। নিহত আলতাফ হোসেনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন নাকু জানান, দুই পরিবারের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ ছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিশি বৈঠক হলেও এর সমাধান হয়নি।
