ট্রাভেল এজেন্সি বিরোধী ধারা বাতিলের দাবি আটাবের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩:৩৪, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
ট্রাভেল এজেন্সি বিরোধী ধারা বাতিলের দাবি আটাবের। ছবি: সমাজকাল
ট্রাভেল এজেন্সি খাতের স্বার্থবিরোধী ধারা বাতিলের দাবিতে আটাব সদস্যরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে। বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতের স্বার্থবিরোধী কয়েকটি ধারা বাতিল, ট্রাভেল এজেন্টদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে ‘আটাব সাধারণ সদস্যবৃন্দ’।
রবিববার (২৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর জোনাকি কনভেনশন হলে আটাব সাধারণ সদস্যদের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক ট্রাভেল এজেন্সি মালিক অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় গড়ে ওঠা বিভিন্ন সিন্ডিকেট বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। তবে এসব আইন যেন সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতির কারণ না হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, নির্বাচিত আটাব কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বাতিল না করা হলে ব্যবসাবান্ধব নয়-এমন ধারা আইনে যুক্ত হতো না। সমাবেশ থেকে বিতর্কিত ধারা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইমামুদ্দিন, দিদারুল হক, তোহায়া চৌধুরী, লায়ন নুরুল আলম, মহসিন, সানি, সুমন টিপু, গাজী সালাউদ্দিন প্রমুখ। গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে সংগৃহীত স্বাক্ষরসমূহ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপির সাথে সংযুক্ত করে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আটাবের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ বলেন, এই খসড়া আইনে কিছু ধারা রয়েছে যা দেশের ট্রাভেল ট্রেডের জন্য চরম ক্ষতিকর। বিশেষ করে অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লক্ষ টাকা জামানতের প্রস্তাব, এক এজেন্সির সাথে অন্য এজেন্সির ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা, এবং জেল-জরিমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব-সবকিছুই অযৌক্তিক, অবাস্তব ও ব্যবসাবান্ধব নয়।
আটাবের সাবেক মহাসচিব মিসেস আফসিয়া জান্নাত ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, আটাবের কমিটি বাতিল করে সংগঠনকে দুর্বল করার একটি সিন্ডিকেট-চালিত নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এটি পুরো ট্রাভেল শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সমাবেশ থেকে তিনটি দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে-
১. অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সিদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা জামানতের প্রস্তাব বাতিল ও এটি ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেবে।
২. এজেন্সি-টু-এজেন্সি টিকেট ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধের বিধান প্রত্যাহার, কারণ এটি যাত্রী সেবা ব্যহত করবে ও ছোট এজেন্সিদের কর্মহীন করবে ও পুরো ট্রেডকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
৩.অতিরিক্ত জেল ও জরিমানা বৃদ্ধির ধারা বাতিল করে পূর্বের বিধান বহাল রাখা এবং অপ্রয়োজনে হয়রানি ও প্রশাসনিক চাপ বৃদ্ধি করবে।
