আফগানিস্তানে ভিসা দেওয়া বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৫০, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০৯:২৩, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
আফগানিস্তানের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের ভিসা প্রদান বন্ধ করেছে।
বিশ্বজুড়ে অবস্থিত সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলার দপ্তরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বার্তায় স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— কোনো আফগান নাগরিককে নতুন ভিসা দেওয়া যাবে না এবং যেসব আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর কাজ স্থগিত করতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও শনিবার (২৯ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের পাসপোর্টধারী কাউকেই আর ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের সুরক্ষার প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না।”
গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালান আফগানিস্তানের নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকনওয়াল। এ ঘটনায় দুইজনই গুরুতর আহত হন, এবং পরে একজন হাসপাতালে মারা যান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাকনওয়ালের অতীত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়—তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন-ন্যাটো অভিযানের সময় সিআইএ-এর সহযোগী এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অনুমতিতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন তিনি।
হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) ঘোষণা করে— যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারী সব আফগান নাগরিকের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
এরপর শনিবার বিশ্বব্যাপী দূতাবাসগুলোতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তারবার্তা পৌঁছালে বিষয়টি আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার আফগান নাগরিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষ করে যারা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়ার জন্য বিশেষ ভিসা (এসআইভি)বা মানবিক প্যারোলের ওপর নির্ভর করছিলেন, তাদের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি ইতোমধ্যে কঠোর হয়ে উঠেছে; ভিসা বন্ধের এই পদক্ষেপ সেই নীতিকে আরও কঠোর এবং আগ্রাসী করে তুলল— এমন মত বিশ্লেষকদের।
