কৃষ্ণ সাগরে রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইউক্রেনের নৌড্রোন হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:৩০, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০১:০১, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর তেলবাহী দুটি ট্যাঙ্কারে টানা হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় নৌ ড্রোন। এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখা মস্কোর প্রচেষ্টায় নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে কিয়েভ।
শুক্রবার ও শনিবার টার্কিশ উপকূলের কাছে সংঘটিত এই হামলার ভিডিও ইতোমধ্যে যাচাই করেছে বিবিসি।
টার্কিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজ দুটি—কায়রোজ ও ভিরাট —গাম্বিয়া পতাকাবাহী এবং কৃষ্ণ সাগর জুড়ে চলাচলকারী রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত এসব জাহাজের মালিকানা ও বীমা সাধারণত অস্পষ্ট।
বিবিসি যাচাইকৃত ফুটেজে দেখা যায়, ইউক্রেনীয় জলভিত্তিক ড্রোন সমুদ্রপথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে জাহাজে আঘাত হানার পর আগুনের গোলায় বিস্ফোরিত হয়। শুক্রবার কায়রোজ এবং শনিবার ভিরাট–এ দ্বিতীয় দফা হামলা হয়। টার্কিশ উদ্ধারকারী নৌযান কায়রোজে এ লাগা আগুন নেভাতে কাজ করেছে।
ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ায় রাশিয়া শত শত পুরনো ও অস্পষ্ট নিবন্ধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে ব্যবহার করছে। এই নৌবহরকেই বলা হয় শ্যাডো ফ্লিট।
তেল রপ্তানি রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির মূল জ্বালানি—তাই ইউক্রেনের এসব হামলা সরাসরি মস্কোর রাজস্ব আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে একই রাতে রুশ বন্দর নভোরোসিয়েস্কে নৌ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের একটি মুরিং পয়েন্ট। এতে কনসোর্টিয়াম তেল লোডিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এই কনসোর্টিয়ামে রাশিয়া, কাজাখস্তান ছাড়াও শেয়ারধারী রয়েছে পশ্চিমা কোম্পানি—এক্সন মবিল, শেভরন ও শেল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা রুস্টেম উমেরভের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে যুদ্ধবিরতি কাঠামো নিয়ে পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নিতে।
এর আগে আলোচনার নেতৃত্বে থাকা আন্দ্রি ইয়ারমাকের বাসায় দুর্নীতি তদন্ত সংক্রান্ত তল্লাশির পর তিনি পদত্যাগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় রবিবার ইউক্রেন প্রতিনিধি দল ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশী দূত স্টিভ উইটকফ আগামী সপ্তাহে মস্কোতে আলোচনায় বসবেন।
