যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, নিহত ৭০ হাজার ছাড়াল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৪৮, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১১:২৭, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’ নামের ঘোষণাটি কার্যত কাগজেই আটকে গেছে। অবরুদ্ধ উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল, নৌ ও আকাশপথে হামলা অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজারের ভয়াবহ সীমা অতিক্রম করেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭০ হাজার ১০০ মানুষ; আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি।
মার্কিন মধ্যস্থতায় কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ৫৩৫ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে গাজা সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়। তাদের দাবি, অব্যাহত আগ্রাসনে উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি নজিরবিহীন মাত্রায় অবনতি হয়েছে; ধ্বংস হয়ে গেছে অবকাঠামো, জরুরি সেবা ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে খান ইউনিসের বানি সুফাইলা এলাকায় আল-ফারাবি স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয় দুই শিশু—জুমা ও ফাদি তামের আবু আসসি। আহত অবস্থায় নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার এলাকা ছিল যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে।
একই দিন আল-কারারা শহরে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত তিনজন আহত হন। গাজা সিটির পূর্বাঞ্চল তুফাহ অঞ্চল ও রাফাহর পূর্ব দিকেও ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগের দিনও একই এলাকায় ইয়েলো লাইনের বাইরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন বলে নিশ্চিত করে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
গাজা সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়ের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেন,“ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।”
তিনি জানান, হাসপাতাল, সড়ক, পানি সরবরাহ লাইন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা—সবই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শীতের শুরুতেই আশ্রয়হীন হাজারো মানুষ পানীয় জল, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত।
সূত্র: আল জাজিরা
