পোপ লিওকে ইসরায়েলের নিন্দা জানানোর আহ্বান হিজবুল্লাহর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:০১, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
পোপ লিওর লেবানন সফর উপলক্ষে হাজমিহ শহরের রাস্তার ধারে একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
লেবাননের ওপর অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি সফররত ক্যাথলিক ধর্মপ্রধান পোপ লিও চতুর্দশকে এসব আগ্রাসনের জন্য প্রকাশ্যে নিন্দার আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার হিজবুল্লাহ তাদের সামাজিক মাধ্যমে পোপের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তা প্রকাশ করে। এতে তারা বলেন, ‘পোপের এ শুভ সফরকে সামনে রেখে আমরা আবারও আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করছি যে, লেবাননের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আমাদের মূলনীতি। দেশের সেনাবাহিনী ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যেকোনো আগ্রাসন ও দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াই আমাদের অঙ্গীকার।’
হিজবুল্লাহ বার্তায় উল্লেখ করে, ইসরায়েল যে আচরণ করছে তা অগ্রহণযোগ্য। তারা আশা প্রকাশ করে যে, পোপ লিও চতুর্দশ লেবাননের জনগণের ওপর অবিচার ও হামলার বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত কথা বলবেন।
সফরে পোপ লিও বেসামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিভিন্ন মসজিদ ও ঐতিহাসিক গির্জা পরিদর্শন, বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা এবং প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে একটি দেবদারু গাছ রোপণ করবেন এবং সেন্ট শারবেলসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে প্রার্থনা করবেন।
শুক্রবারের এক বক্তব্যে হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম পোপের সফরকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পোপের কাছে হস্তান্তরের জন্য সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তা প্রকাশেও কোনো গোপনীয়তা থাকবে না।
তিনি আরও জানান, তাদের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলা হয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে লেবাননের ভেতরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
শেখ কাসেম আশা প্রকাশ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পোপের উপস্থিতি লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আমরা দৃঢ় আশা করি, তিনি লেবাননকে আগ্রাসন থেকে মুক্ত করতে এবং শান্তি স্থাপনে সহায়তা করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে লেবাননের সব এলাকা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনো পাঁচটি স্থানে তাদের সেনা অবস্থান করছে, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এরপর থেকে ইসরায়েল বারবার লেবাননের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে সতর্ক করেছে লেবানন সরকার।
