দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলামিক আর্ট গ্যালারি উদ্বোধন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:০০, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সিউলের জাতীয় জাদুঘরে ইসলামিক আর্ট গ্যালারি। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
শিল্পের কোনো কাঁটাতার নেই। সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের মন সব সময়ই নতুনের সন্ধানে ব্যাকুল থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার বুকে এবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। দেশটির রাজধানী সিউলে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করল ইসলামি শিল্পকলা বিষয়ক স্থায়ী একটি গ্যালারি। শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরে এই নতুন উইংটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো সিউলবাসী।
কোরিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়াম এবং কাতারের মিউজিয়াম অফ ইসলামিক আর্টের যৌথ উদ্যোগে এই গ্যালারিটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রদর্শনীটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামিক আর্ট, আ ম্যাগনিফিসেন্ট জার্নি’ তথা ইসলামি শিল্পকলা, এক মহিমান্বিত যাত্রা।
দেশটিতে ইসলামি সভ্যতা এবং এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ যে দিন দিন বাড়ছে, এই গ্যালারি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুসলিম বিশ্বের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং শৈল্পিক ধারাকে কোরিয়াবাসীর সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
এখানে স্থান পেয়েছে জ্যামিতিক নকশার নিখুঁত বুনন ও নান্দনিক সব শিল্পকর্ম। পশ্চিমা বিশ্ব থেকে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল অঞ্চলের ইসলামি শিল্পধারার ক্রমবিকাশ এখানে ফুটে উঠেছে অত্যন্ত নিপুণভাবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।’ (সহিহ মুসলিম) এই হাদিসের মর্মবাণী যেন প্রতিটি ইসলামি শিল্পকর্মে মূর্ত হয়ে আছে, যা আজ সুদূর কোরিয়ায় দ্যুতি ছড়াচ্ছে।
বিভিন্ন উপাদানে তৈরি এসব শিল্পকর্ম দর্শকদের এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যাবে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মতে, এটি কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং এটি দক্ষিণ কোরিয়া ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরির এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কোরিয়ার সাধারণ মানুষ মুসলিম সমাজের বৈচিত্র্যময় কৃষ্টি ও কালচার সম্পর্কে জানার এক নতুন সুযোগ পাবে।
১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কোরিয়ার জাতীয় জাদুঘর দেশটির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের প্রধান কেন্দ্র। প্রায় দুই লাখ বিশ হাজারেরও বেশি নিদর্শনের সংগ্রহশালা এটি।
অন্যদিকে প্রখ্যাত স্থপতি আই এম পে-এর নকশায় ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কাতারের মিউজিয়াম অফ ইসলামিক আর্ট বিশ্ব জুড়ে ইসলামি শিল্পের এক অনন্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধনে স্থাপিত এই গ্যালারিটি নিঃসন্দেহে এশিয়ায় ইসলামি শিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
