তুরস্কের ব্লু মসজিদে পোপ লিও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:৩৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
তুরস্কের ব্লু মসজিদে পোপ লিও। ছবি: সিবিএস নিউজ
তুরস্কে ওটোমান সাম্রাজ্যের স্মৃতিবিজড়িত ইস্তাম্বুল নগরীর ব্লু মসজিদ ভ্রমণ করলেন পোপ লিও চতুর্দশ। মুসলিম কোনো উপাসনালয়ে এটিই তার প্রথম পদচারণা।
তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান সাফি আরপাগুস আজ পোপকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মসজিদের পবিত্রতা ও আদব রক্ষার্থে পোপ তার জুতো খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। নরম কার্পেটে পা ফেলে তিনি উপভোগ করেন ১৬১৭ সালে নির্মিত এই স্থাপনার অনন্য স্থাপত্যশৈলী। ফিরোজা রঙের টাইলস আর বিশাল গম্বুজের কারুকাজ দেখে তিনি মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। সুলতান আহমেদ আব্বালের আমলে নির্মিত এই মসজিদটি আজও ইস্তাম্বুলের মুসলিমদের ইবাদতের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মসজিদের ইমাম আসগিন টুনকা পোপকে আল্লাহর এই ঘর সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। তিনি পোপকে জানান, এটি আল্লাহর ঘর এবং তিনি চাইলে এখানে উপাসনা করতে পারেন। তবে পোপ উপাসনা না করলেও মসজিদের আধ্যাত্মিক পরিবেশ অনুভব করার গভীর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পোপ ইমামকে জানান, তিনি কেবল এই পবিত্র স্থানের আবহটুকু হৃদয়ে ধারণ করতে চান। পোপদের তুরস্ক সফরের তালিকায় ব্লু মসজিদ বরাবরই গুরুত্ব পেয়ে আসছে, যা মুসলিমদের প্রতি তাদের সম্মানের একটি নিদর্শন। পোপ লিও চতুর্দশ তার পূর্বসূরিদের সেই ঐতিহ্য বজায় রাখলেও পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া পরিদর্শনে যাননি। ২০২০ সালে আয়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তর করার পর পশ্চিমা বিশ্বে যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সম্ভবত সেই প্রেক্ষাপট থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্লু মসজিদে পোপের এই পরিদর্শন ছিল আন্তঃধর্মীয় সংযোগ স্থাপনের একটি বিশেষ অংশ। মসজিদ চত্বর ত্যাগ করার পর তিনি তুরস্কের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সিরিয়াক অর্থোডক্স চার্চ অফ মর এফ্রেম পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কাল চার্চ অফ সেন্ট জর্জে ইকুমেনিকাল প্যাট্রিয়ার্ক বার্থলোমিউ প্রথমের সঙ্গে তার প্রার্থনায় যোগ দেওয়ার কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।
পোপের এই সফর বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা বৃদ্ধির একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এর আগে শুক্রবার তিনি ইজনিকে খ্রিস্টান নেতাদের সঙ্গে মিলিত হন, যা প্রাচীন নিসিয়া নামে পরিচিত। সেখানে নিসিয়া কাউন্সিলের সতেরোশ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়।
বিশ্ব জুড়ে চলমান মানবিক সংকটের এই সময়ে তিনি নেতাদের বিভেদ ভুলে ঐক্যের পথে হাঁটার আহ্বান জানান। দিনের শেষে তিনি তুরস্কের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশেষ প্রার্থনা করেন। সাড়ে আট কোটি জনসংখ্যার এই দেশে মাত্র তেত্রিশ হাজার ক্যাথলিক বসবাস করলেও সম্প্রীতির এই বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
