মানুষের জীবনে শক্তির উৎস ইতিবাচক চিন্তা
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৫০, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০৮:৫৫, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
ইতিবাচক চিন্তা মানুষের জীবনে অফুরন্ত শক্তির উৎস। এই চিন্তা গ্লানি দূর করে না, ক্লান্ত আত্মাকে সজীবতা দান করে এবং হতাশাগ্রস্ত মনকে স্থিতিশীলতা এনে দেয়। দৈনন্দিন জীবনের নানা দুশ্চিন্তা, অপ্রত্যাশিত মানসিক চাপ অথবা গভীর বিষণ্ণতার অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে প্রতিটি মানুষই এই ইতিবাচকতার স্পর্শ খুঁজে ফেরে।
আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা এর অপরিমেয় প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা করলেও একজন মুসলিমের জন্য ইতিবাচক থাকার সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পথটি নির্দেশিত হয়েছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন ও শিক্ষার মাধ্যমে।
তার প্রতিটি বাণী, আচার-আচরণ এবং সামগ্রিক জীবনদর্শন আমাদের শেখায় কীভাবে নিজেদের অন্তরে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখতে হয়, কীভাবে জগতের সবকিছুকে সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হয় এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল হওয়া যায়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনাতেই রয়েছে ব্যক্তিগত জীবনে প্রশান্তি লাভের চাবিকাঠি। যেমন নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করা, আল্লাহর নিয়ামতসমূহের প্রতি কৃতজ্ঞতার পথ তৈরি করা। একইভাবে সমাজের প্রতি কোমল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা, মানুষের ত্রুটি-বিচ্যুতিকে ক্ষমা করা এবং জীবনের অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার শিক্ষা তার আদর্শেই সমৃদ্ধ হয়েছে।
ইসলামের এই ইতিবাচক আলোর সংস্পর্শে একজন মুসলিমের মন ভেতর থেকে শক্ত হয়, জীবনযাত্রা হয় সহজ ও সুন্দর এবং সমাজও গড়ে ওঠে সহনশীলতার ভিত্তিতে। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক চিন্তার দুটি মূল ভিত্তি হলো, নিজেকে ইতিবাচক রাখা এবং সমাজকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা, এই উভয় ক্ষেত্রেই রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা এক সম্পূর্ণ জীবনবিধানের রূপ নেয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা মুসলিম উম্মাহকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে ইতিবাচকতার উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে অনুপ্রাণিত করে। সৎ সঙ্গের প্রভাবে মনকে পরিশুদ্ধ রাখা এবং নিম্নস্তরের মানুষের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, এসবই ব্যক্তিগত ইতিবাচকতার মূলমন্ত্র। পাশাপাশি সমাজের প্রতি সহনশীল ও ক্ষমাশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখা এবং জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর সুধারণা পোষণ করে অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যার মাধ্যমে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। রাসুল (সা.)-এর এই অনুপম আদর্শ অনুসরণ করে আমরা আমাদের জীবনকে আরও অর্থবহ, ফলপ্রসূ ও শান্তিময় করে তুলতে পারি।
মানুষ তার সঙ্গীর স্বভাব দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। তাই মনকে ইতিবাচক রাখতে হলে অবশ্যই ইতিবাচক প্রকৃতির মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ তার বন্ধুর মতো চলে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত, সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে। (সুনানে আবু দাউদ ৪৮৩৩) এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বন্ধুত্ব মানুষের স্বভাব ও চরিত্রের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ইতিবাচক মানুষের সঙ্গ আমাদের মনে আশা, সাহস ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে।
হজরত খাদিজা (রা.)-এর মতো ইতিবাচক মানসিকতা গঠন করা উচিত। প্রথমবার ওহি নাজিলের পর নবীজি (সা.) যখন ভয় ও শারীরিক কষ্টে ভুগছিলেন, তখন হজরত খাদিজা (রা.) নবীজি (সা.)-কে ইতিবাচক দিকগুলোতে মনোযোগী করিয়েছিলেন। তিনি নবীজি (সা.)-এর গুণাবলি একে একে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘কখনোই না! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমান করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, দুর্বলদের সহায়তা করেন, অভাবীদের জন্য সাহায্য করেন, অতিথিকে আপ্যায়ন করেন এবং সত্যের প্রয়োজনে সহযোগিতা করেন।’ (সহিহ বুখারি)
এটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির এক উজ্জ্বল উদাহরণ, স্বামী যখন চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে, স্ত্রী তখন তার অতীতের ভালো কাজগুলো স্মরণ করিয়ে তাকে শান্তি ও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছেন।
