মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে সফরে যাচ্ছেন পোপ লিও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:২১, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও বিভাজনের সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে ছয় দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে আজ বৃহস্পতিবার তুরস্ক ও লেবাননে পৌঁছাচ্ছেন পোপ লিও চতুর্দশ। এটি তার নির্বাচনের পর প্রথম বিদেশ সফর। আর এই সফরেই ফুটে উঠবে নতুন পোপের পন্টিফিকেটের প্রধান বার্তা—সংলাপ, ঐক্য ও শান্তি।—বলছে সিএনএনের বিশ্লেষণ।
কেন তুরস্ক ও লেবানন সফর করছেন পোপ লিও?
তুরস্কে ইস্তাম্বুল ও ইজনিক ভ্রমণ এবং লেবাননে বৈরুত সফর—দুটি দেশেই ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও ঐতিহাসিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপস্থিতি পোপের সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তুরস্কে সফরটি মূলত ইকিউমেনিক্যাল প্যাট্রিয়ার্ক বারথলোমিউ–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে ঐক্য জোরদার করার উদ্দেশ্যে। এ দুই খ্রিস্টান শাখা ১০৫৪ সালে বিভক্ত হয়েছিল, যা “গ্রেট স্কিজম” নামে পরিচিত।
লেবানন সফরটি আরও রাজনৈতিক ও মানবিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কয়েক দিন আগে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর সেখানে পৌঁছাচ্ছেন পোপ। তিনি চাইবেন সংলাপ, শান্তি ও মানবিক সহমর্মিতার আহ্বানকে আরও জোরালো করতে।
নিসিয়া কাউন্সিলের ১,৭০০ বছর পূর্তি—তুরস্ক সফরের কেন্দ্রবিন্দু
৩২৫ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ইজনিক শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম নিসিয়া কাউন্সিল, যেখানে গৃহীত হয় ইতিহাসখ্যাত নিলেন ক্রিড ।
এই উপলক্ষে পোপ লিও অংশ নেবেন বিশেষ স্মারক আয়োজনে। সিএনএন জানায়, তার আগমনকে কেন্দ্র করে তুরস্কে খ্রিস্টান একতার প্রতীকী মুহূর্ত তৈরি হবে।
পোপ আগেই বলেছেন—এই বার্ষিকী খ্রিস্টানদের অতীতের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ভুলে “সমঝোতার পথে এগোনোর” সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া ইস্তাম্বুলে তিনি ব্লু মসজিদ পরিদর্শন করবেন, তবে ২০২০ সালে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরিত হওয়া হায়া সোফিয়াতে যাবেন না।
লেবাননে ব্যস্ত কর্মসূচি—শান্তি, সংলাপ ও মানবিকতার বার্তা
রবিবার লেবাননে পৌঁছে পোপ বৈরুতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, খ্রিস্টান–মুসলিম–দ্রুজ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন।
তিনি অংশ নেবেন একটি বিশাল আন্তধর্মীয় সমাবেশে এবং বৈরুত সমুদ্রতীরে ঐতিহাসিক মিসা পরিচালনা করবেন।
২ ডিসেম্বর পোপ নীরবে প্রার্থনা করবেন ২০২০ সালের বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণের স্থানে, যেখানে ২১৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এ ছাড়া—মারোনাইট খ্রিস্টানদের কেন্দ্র সেন্ট মারোন মঠে প্রার্থনা, সেন্ট শরবেল মাখলুফের সমাধি দর্শন, একটি বৃহৎ ক্যাথলিক হাসপাতাল পরিদর্শন, প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রতীকী সিডারগাছ রোপণ করবেন দিও।
সব কিছু মিলিয়ে লেবাননে তার উপস্থিতি হবে মানুষের মনোবল জাগানো এবং অঞ্চলকে শান্তির পথে ফেরানোর বার্তা।
কীভাবে ভ্রমণ করছেন পোপ?
সিএনএন জানায়, পোপ লিও ইতালির রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন আইতা এয়ার ওয়েজ এর এর বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রা করবেন, যাকে অনেকে ডাকেন “Shepherd One”।
তার সঙ্গে থাকবেন—ভ্যাটিকানের শীর্ষ কার্ডিনালরা, চিকিৎসক দল,প্রায় ৮০ জন সাংবাদিক।
তুরস্ক ও লেবাননে তাকে বহন করবে সামরিক হেলিকপ্টার ও নিরাপত্তাবেষ্টিত গাড়িবহর।
মার্কিন পোপের থ্যাংকসগিভিং?
সফরটি চলছে মার্কিনদের থ্যাংকসগিভিং সপ্তাহে। পোপ কীভাবে তা উদযাপন করবেন, ভ্যাটিকান নিশ্চিতভাবে জানায়নি। তবে তার পরিবার জানায়, পোপ লিওর খুব পছন্দ থ্যাংকসগিভিং স্টাফিং।
