খুলনায় সবজির দাম চড়া, স্বস্তি মাছ–মুরগিতে
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:১৯, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০১:০৬, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে খুলনার বাজারে সবজির দাম চড়া অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে কেজিপ্রতি ৫–১০ টাকা কমলেও সামগ্রিকভাবে সবজির দাম এখনও বেশি। অন্যদিকে মাছ ও মুরগির বাজারে বেশ কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সবজির সরবরাহ আরও না বাড়লে উল্লেখযোগ্যভাবে দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে খুলনার নতুন বাজার, নিউ মার্কেট ও মিস্ত্রিপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে শিম ৮০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৬০–৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০–৫০ টাকা, করলা ৭০–৮০ টাকা, পটোল ৪০–৫০ টাকা, পালংশাক ৩০–৪০ টাকা, লাউশাক ৪০–৫০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০–৫০ টাকা, টমেটো ৮০–১০০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩০–৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচ মানভেদে ১২০–১৪০ টাকা। পেঁয়াজ ১১০–১৩০ টাকা এবং রসুন ৮০–১০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি ১৫০–১৬০ টাকা, সোনালি ২৭০ টাকা এবং লেয়ার ২৩0–২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০–১২০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই ২২০–২৫০ টাকা, কাতল ২৪০–২৫০, মৃগেল ২২০–২৪০, তেলাপিয়া ১৫০–১৬০ এবং পাঙাশ ১৬০–১৮০ টাকা কেজি। ভেটকি ৫০০–৬০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০–৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০–৩৫০ টাকা এবং ছোট মাছ ৩০০–৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতাদের দাবি, গ্রামাঞ্চল থেকে সরবরাহ এখনও পর্যাপ্ত নয়। সরবরাহ বাড়লে বহু সবজির দাম আর কমবে।
নিউ মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা হামিদ শেখ বলেন, “শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা কমেছে। শীত বাড়লেই সরবরাহ বাড়বে। আমরা খুচরা ১০–১৫ টাকা লাভে সবজি বিক্রি করি। সরবরাহ কম থাকলে দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।”
মাছ বিক্রেতা কামরুল হক জানান, “দেশি ও সামুদ্রিক প্রায় সব মাছের দামই ৪০–৫০ টাকা কেজিতে কমেছে। তেলাপিয়া এখন ১৩০–১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।”
ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম এখনও স্বস্তির জায়গায় আসেনি।
ক্রেতা আবু বক্কর বলেন, “টমেটো ৭০–৮০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। ফুলকপি-ঢ্যাঁড়স কিছুই ৫০ টাকার নিচে নেই। সবজির দাম কমলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে।”
গৃহিণী রেশমা সুলতানা মনে করেন, “সরবরাহে ঘাটতি নেই, তারপরও দাম বেশি। নিয়মিত বাজার মনিটরিং হলে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”
