ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী উত্তেজনা
বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:২২, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তবে সংবাদে সকলের নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে স্থানীয় গ্রামবাসী এবং দুই দলের সমর্থক রয়েছে, যারা রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিলো জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ কার্যক্রম চলাকালীন। বিএনপি সমর্থকরা অভিযোগ করছে, তাদের এলাকা থেকে যাওয়ার পথে হামলা চালায় জামায়াত সমর্থকরা। অপরদিকে জামায়াত দাবি করেছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা করছিলো, কিন্তু বিএনপির হঠাৎ হামলার কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু এলাকাবাসী বলছেন, দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির মধ্য দিয়ে হাতাহাতি এবং ইট-পাথর ছোঁড়াছুড়ি শুরু হয়।
ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ি গ্রামে কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। বিকেলেই প্রার্থীর বহর গ্রামে প্রবেশ করলে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ঘটনাস্থলে গুলির শব্দ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় এখন হাসপাতালে ভর্তি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ছেলে-মেয়ে ও সাধারণ গ্রামবাসীও রয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাতের দিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ, তবে রাতভর পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, নির্বাচনের আগে এমন সংঘর্ষ চলতে থাকলে এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ আসন্ন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেক্ষাপটকে প্রতিফলিত করছে। দলীয় নেতাদের আচরণ, সমর্থক‑উচ্ছ্বাস এবং পূর্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রশাসন যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে সামান্য উত্তেজনাও বড় দাঙ্গায় রূপ নিতে পারে।
দলীয় নেতাদের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মিথ্যাচার এবং একে অপরের সমালোচনা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল, বাজার এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চাইছে। প্রশাসনকে রাতভর সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ আর না ঘটে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
