নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরই বড় চ্যালেঞ্জ: নাহিদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:১৯, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২২:৪৭, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করাই বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে যে বাংলাদেশ সঠিক পথে ফিরছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’–এর ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি আমরা এই ট্রানজিশন শান্তিপূর্ণভাবে করতে না পারি, তাহলে অস্থিরতা থেকেই যাবে। আগামী নির্বাচনই বলে দেবে দেশ স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে কি না।”
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি রাতারাতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এক বছর বা দেড় বছরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা বড় রকমের পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয়। এজন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তবে সমাজকে ইতিবাচক সিগন্যাল দিতে হবে যে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে।”
তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “গুণগত ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষা গড়ে তুলতে পারলে তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট সহজেই কমবে।”
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের রাজপথে নামার মূল প্রেরণা ছিল—বৈষম্য, কর্মসংস্থানহীনতা ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ।
পূর্ববর্তী শাসনামলকে “লুটপাটের অর্থনীতি” আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “অর্থ পাচার, ব্যাংক লুট, মাফিয়াতন্ত্র, অলিগার্ক শ্রেণির উত্থান—এসবের কারণেই বৈষম্য চরমে পৌঁছেছিল।” এ কারণেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জনসমর্থন পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে বৃহত্তর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার কৌশল নিয়েও কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের মজুরি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের দাবি—এসবই তখন আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।”
নাহিদ ইসলাম উদাহরণ দেন, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এসব আন্দোলনের পেছনেও ছিল কর্মসংস্থান সংকট, ন্যায়বিচারের অভাব, নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা এবং জীবনযাত্রার ক্রমাবনতি।
ঢাকার বসবাসযোগ্যতা নিয়ে সংকেত দিতে গিয়ে নাহিদ বলেন, “বায়ুদূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, বাড়িভাড়া, দ্রব্যমূল্য—এসব বড় শহরগুলোকে মানুষ-অযোগ্য করে তুলেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণরাই।”
নাহিদ ইসলাম মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের পেছনের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও বৈষম্যবিরোধী চাহিদাগুলোর সুষ্ঠু সমাধানই পারে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথে নিতে।
