বিএনপিতে ফিরলেন রাসিকের সাবেক ১৫ কাউন্সিলর
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪:১০, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপির লোগো।
জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক ১৫ কাউন্সিলর বহিষ্কারমুক্ত হয়ে আবারও বিএনপিতে ফিরেছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২৩ সালের ২১ জুনের সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তারা আগে বহিষ্কৃত হন। দলের মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মিনুর সুপারিশে সম্প্রতি তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী–২ (মহানগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় মিনু দল পুনঃসংগঠনের অংশ হিসেবে রাসিকের মোট ১৭ জন সাবেক কাউন্সিলরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাঠান কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। ওই তালিকায় ছিলেন দুই প্রয়াত কাউন্সিলর—আলিফ আল মাহমুদ লুকেন ও নুরুজ্জামান টিটো—যারা বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই মৃত্যুবরণ করেন। লুকেন ২৫নং ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে মারা যান। টিটো ছিলেন ১৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক; তিনি মারা যান গত ১০ এপ্রিল।
মিনুর মতে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে প্রয়াত দুই নেতার পরিবারও দলের স্বীকৃতি ও সম্মান ফিরে পেল।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া ১৫ সাবেক কাউন্সিলরের মধ্যে রয়েছেন—২৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন আজব,১৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর মহিলা দল নেত্রী শামসুন্নাহার নাহার,সাবেক কাউন্সিলর বেবি,১৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বেলাল হোসেন,১৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সোবহান লিটন,২৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আশরাফ হোসেন বাচ্চু, ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুজ্জামান বদি, সাবেক নারী কাউন্সিলর শিখা এবংসাবেক কাউন্সিলর রুহুল আমিন টুনুসহ আরও কয়েকজন।
এরা সবাই অতীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যেসব সাবেক কাউন্সিলর নির্বাচনের পর বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তারা এখনও বহিষ্কৃত।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সংবাদ পাওয়ার পর সাবেক কাউন্সিলররা বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর বাসভবনে গিয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহীতে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
সূত্র জানায়, আগামী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) মিজানুর রহমান মিনু আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন। তার প্রথম শোডাউন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোকে ঘিরেই হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
