জুলাই আন্দোলন হত্যা মামলায় অব্যাহতি পেলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:১৮, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২০:২৩, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলন চলাকালে নিহত ভারগো গার্মেন্টস কর্মকর্তা সোহান শাহ হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তদন্ত কর্মকর্তার জমা দেওয়া অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই আদেশ দেন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
গত ১০ জুলাই সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় অধ্যাদেশ জারির পর তদন্ত চলাকালীন অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সেই ধারায় বশিরউদ্দীন প্রথম সুবিধাভোগীদের একজন।
র্যাব-৩ এর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৪ নভেম্বর আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে মত দেন—“মামলার ঘটনায় শেখ বশিরউদ্দীনের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
কী ছিল মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রাজধানীর রামপুরায় একটি সিএনজি স্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ হন ৩০ বছর বয়সী সোহান শাহ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ২৮ আগস্ট মারা যান।
এরপর সোহানের মা সুফিয়া বেগম গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৫৭ জনের বিরুদ্ধে। এজাহারে ৪৯ নম্বর আসামি ছিলেন শেখ বশিরউদ্দীন।
তার ঠিক আগেই ৪৮ নম্বর আসামি হিসেবে নাম ছিল তার ভাই, যশোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের। দুজনই দেশের প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দীনের ছেলে।
সেই মামলা থেকে মঙ্গলবারের আদেশে অব্যাহতি পেলেন কেবল বশিরউদ্দীন।
এই মামলার অন্য আসামীরা হলেন-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ডিএমপি ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, নরসিংদী-১ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম হিরু, নরসিংদী-২ আসনের এমপি আনোয়ার আশরাফ খান দিলীপ, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন, সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখর।
তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
