ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ায় বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা, জরুরি অবস্থা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:১৩, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ভয়াবহ বন্যা ও নতুন ভূমিধসে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবে টানা বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও নতুন ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশজুড়ে তৈরি হওয়া মারাত্মক মানবিক সংকট মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং উদ্ধার–ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে এখন পর্যন্ত ১৩২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ১৭৬ জন এখনো নিখোঁজ। সপ্তাহজুড়ে টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ১৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, আর ৭৮ হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ত্রাণকেন্দ্রে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (ডিএমসি) মহাপরিচালক সম্পথ কোটুওয়েগোদা জানান, বিপর্যয়ের চিত্র দ্রুত ভয়াবহতায় রূপ নিচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান তৎপরতা চলছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ইতোমধ্যে অতিরিক্ত দল পাঠিয়েছে দুর্গত এলাকায়।
বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় কান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দেওয়ায় রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের প্রধান মহাসড়কের কয়েকটি অংশ ডুবে গেছে। কেলানি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইতে থাকায় আশপাশের হাজারো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। বিদেশে থাকা শ্রীলঙ্কানদের প্রতিও আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারত শ্রীলঙ্কার আহ্বানে দ্রুত সাড়া দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি বিমানে করে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ তার রেশন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স (টুইটার)-এ পোস্ট দিয়ে শ্রীলঙ্কার মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, “ভারত তার ঘনিষ্ঠ সামুদ্রিক প্রতিবেশীর পাশে রয়েছে।”
২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ডিটওয়া–সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সেই দুর্যোগের সমপর্যায়ের এবং দেশটির মতে চলতি শতকের অন্যতম ভয়ঙ্কর বিপর্যয় এটি। এর আগে ২০০৩ সালের জুনে ভয়াবহ বন্যায় ২৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কায় জাতীয় জরুরি অবস্থা কার্যকর রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
