হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এখন ‘অবাঞ্ছিত সংস্থা’ রাশিয়ায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:১৯, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২০:৩৭, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে (এইচআরডব্লিউ) ‘অবাঞ্ছিত সংস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে রাশিয়া। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়। ফলে এইচআরডব্লিউকে অবিলম্বে রাশিয়ার ভেতরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং সংস্থাটির সঙ্গে যেকোনো সহযোগিতা এখন থেকে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা হওয়ার অর্থ—এইচআরডব্লিউর সব কার্যক্রম রাশিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ, সংস্থাকে সহযোগিতা বা অর্থায়ন করলে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে, বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে “হস্তক্ষেপ”সহ যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোর নজরদারিতে থাকবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময় মস্কোর বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমন, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছে। রুশ সরকারের কাছে বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তির কারণ ছিল।
এইচআরডব্লিউর নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিয়ন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের কাজ বদলায়নি, বদলে গেছে সরকারের স্বৈরাচারী নীতি। দমন-পীড়ন যেভাবে বেড়েছে এবং ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের পরিধি যতটা বিস্তৃত, তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ।”
তিনি জানান, সোভিয়েত-পরবর্তী রাশিয়ায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এইচআরডব্লিউ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই কারণে সংস্থার ওপর চাপ এখন ‘নাটকীয়ভাবে’ বেড়েছে।
রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর থেকেই দেশে বিরোধী কণ্ঠ দমনে কঠোরতা বাড়িয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মন্তব্য করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
এর আগের দিন রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট প্রয়াত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতি দমন ফাউন্ডেশনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। এতে রাশিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্বিচার গ্রেপ্তার, সাংবাদিক নির্যাতন, যুদ্ধাপরাধসহ নানা বিষয়ে গবেষণা ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
রাশিয়ায় নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশটিতে স্বাধীন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্র আরও সংকুচিত হবে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
