বাজেট ঘাটতি ‘অতিরঞ্জন’ করে কর বাড়ানোর পথ খুললেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৪৫, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
যুক্তরাজ্যে লেবার সরকারের চ্যান্সেলর রেচেল রিভসের বিরুদ্ধে দেশের আর্থিক অবস্থা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরঞ্জিত’ দেখানোর অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—৩০ বিলিয়ন পাউন্ড কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা ন্যায্যতা দিতে তিনি বাস্তব ঘাটতির চেয়ে বহু গুণ বেশি ঘাটতি তুলে ধরেছেন, যাতে রাজনৈতিকভাবে নিজেকে এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ‘সুরক্ষা’ দেওয়া যায়।
শুক্রবার রাতে বাজেট ওয়াচডগ অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি (ওবিআর) তাদের সঙ্গে রিভসের আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করলে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে ঘোলাটে হয়ে ওঠে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিভস ও তার কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে ঘাটতি অতিরঞ্জিত করেছেন, যাতে কর বাড়ানোর জন্য জনগণের কাছে যুক্তি দাঁড় করানো যায়।
এর ফলে চ্যান্সেলর রিভস এবং ওবিআর প্রধান রিচার্ড হিউজ—দুজনের ভবিষ্যতই অনিশ্চয়তার মুখে।
ট্রেজারি উল্টো অভিযোগ করেছে, হিউজ ‘গোপন নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার বিষয়’ ফাঁস করে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ভেঙেছেন। আগামী সপ্তাহে তাকে ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির মুখোমুখি হতে হবে। রিভসও রোববার রাজনৈতিক টিভি অনুষ্ঠানগুলোতে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
গণমাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ২০–৩০ বিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতির তথ্য ‘লিক’ হচ্ছিল। অথচ ওবিআর প্রধান হিউজ স্পষ্ট জানিয়েছেন—রিভস কোনো সময়ই ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ঘাটতির মুখোমুখি হননি।
আরও রয়েছে বিপত্তি—৩১ অক্টোবর ওবিআর পূর্বাভাস উন্নীত করে জানায়, উৎপাদনশীলতার নিম্নমুখী সংশোধনের পরও সরকারের হাতে ৪.২ বিলিয়ন পাউন্ড উদ্বৃত্ত রয়েছে। কিন্তু এর মাত্র চার দিন পর রিভস ডাউনিং স্ট্রিটে সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিক অবস্থা ‘খুবই খারাপ’ বলে উপস্থাপন করেন এবং কর বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
রিভস সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘চ্যালেঞ্জিং’ এবং সরকারি অর্থব্যবস্থায় বড় ধাক্কা আসবে—যা তিনি “লুকোতে পারবেন না”। কিন্তু ওবিআর বলছে, তার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার সামঞ্জস্য নেই।
পরবর্তী সপ্তাহে সরকার জানায়—আয়কর বাড়ানো হবে না, কারণ “তথ্য বদলে গেছে।” কিন্তু ওবিআর জানায়—রিভসের সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে তথ্যের কোনো পরিবর্তনই হয়নি।
শুক্রবার রাতে গার্ডিয়ানকে রিভস বলেন—ওবিআর তাকে ‘সঠিক তথ্য দেয়নি’, তাই আয়কর বৃদ্ধির কথা বিবেচনায় ছিল। কিন্তু হিউজ পাল্টা জানান—উৎপাদনশীলতার সংশোধনের তথ্য ৭ আগস্টেই রিভসকে দেওয়া হয়েছিল, এবং এরপর আর পরিবর্তিত হয়নি।
এই পরিস্থিতি ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।কেমি ব্যাডেনক খোলাখুলি দাবি তুলেছেন—
“রেচেল রিভস মাসের পর মাস মিথ্যা বলেছেন। কর বাড়ানোর অজুহাত বানাতে বাজেট ঘাটতি অতিরঞ্জন করেছেন। তাকে বরখাস্ত করতে হবে।”
কনজারভেটিভ শ্যাডো চ্যান্সেলর স্যার মেল স্ট্রাইডও একহাত নিয়েছেন:“তিনি দাবি করেছিলেন পূর্বাভাস খারাপ, তাই কঠিন বাজেট দরকার। অথচ ওবিআর বলছে, তা সত্যই ছিল না।”
এদিকে ট্রেজারি ওবিআরের বিরুদ্ধে গোপন আলোচনার তথ্য প্রকাশের অভিযোগ তুলেছে—যা ২০২২ সালের লিজ ট্রাস সরকারের সময়ের মতো রাজনৈতিক সংঘর্ষের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে।
চ্যান্সেলর রিভস এখন কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে। ওবিআর প্রধানকেও জবাবদিহি করতে হবে। অর্থনীতি, করনীতি ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা—সব কিছুকেই কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
