যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত কার্যক্রম স্থগিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:২৩, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১১:২৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে গত বুধবার ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন। আফগানিস্তান থেকে আগত এক অভিবাসীর গুলিতে আহত দুই সেনার একজন মারা গেছেন।
এই ঘটনার জের ধরেই যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয় বলে জানা গেছে।
এর আগে, দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসী গ্রহণ বন্ধের ঘোষণা দেন। যদিও সে সময় তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
ইউএস সিটিজেন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন—“সব বিদেশির পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, ইউএসসিআইএস কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে আপাতত কোনো আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এটি বিশ্বের সকল দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। তবে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে; শুধু ফাইনাল সিদ্ধান্ত প্রদানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এটিকে ‘অভিবাসন হ্রাসে চরমপন্থী উদ্যোগ’ বলে মন্তব্য করেছে।
আইনবিদরা মনে করছেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে একত্রে টার্গেট করে অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, ফলে সিদ্ধান্তটি ব্যাপক আইনি বাধার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বহু অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার যে অধিকার ছিল, সেটি বাতিল করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের নতুন এই সিদ্ধান্তে আশ্রয়প্রত্যাশী লাখো মানুষের অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে বলেই মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা।
