ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ না-পেয়ে ক্ষুব্ধ কেপি মুখ্যমন্ত্রী:
অবস্থান ও অনশন কর্মসূচির প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৫২, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফরিদির ‘অবস্থান কর্মসূচি’ ও সাক্ষাৎ-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার মাঝেই জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রানা সানাউল্লাহ তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নেতা রানা সানাউল্লাহ বলেন,“কেপি মুখ্যমন্ত্রী যদি ইমরান খানের প্রতি এতটাই অনুগত হন, তাহলে আদিয়ালা কারাগারের সামনে অনশন করে প্রেম প্রমাণ করুন—মৃত্যু পর্যন্ত অনশন করুন!”
তার এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুমতি পেলেও ‘রাজনীতি নয়’: সানাউল্লাহ
রানা সানাউল্লাহ আরও বলেন, আদালত ইতোমধ্যে পিটিআই নেতাদের ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে—তবে শর্ত হলো,
জেলে বসে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা ‘ঘণ্টাব্যাপী প্রেস কনফারেন্স’ নয়।
তিনি বলেন—“ইসলামাবাদমুখী মিছিল, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগের ডাক—এসবের কোনো আইনি অনুমতি নেই। কেউ জেল থেকেই আন্দোলন পরিচালনা করতে পারে না।”
১৬ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি, আদালত অবমাননার আবেদন
বৃহস্পতিবার কেপি মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফরিদি পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ না-পেয়ে আদিয়ালা রোডে ১৬ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পরে ইমরান খানের বোন আলীমা খান কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন।
পিটিআই দাবি করছে—সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সাক্ষাৎ ঠেকাচ্ছে, কারণ তারা ইমরান খানের জনপ্রিয়তা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক বার্তা থেকে আতঙ্কিত।
‘সানাউল্লাহ নিজেই ভয় পাচ্ছেন’, দাবি পিটিআই
একই অনুষ্ঠানেই কেপি মুখ্যমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী শফি জান বলেন—“সানাউল্লাহ নিজেই স্বীকার করেছিলেন—ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া উচিত। এখন সরকার কেন পিছিয়ে যাচ্ছে? কারণ তারা ভয় পায়।”
তিনি ইমরান খানের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে আরও বলেন—“আমাদের পার্টি প্রধানের স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ আছে। আদালতও সাক্ষাৎ অনুমোদন দিয়েছিল। তারপরও বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
শফি জান অভিযোগ করেন—“যেখানে কাইবার পাখতুনখাওয়া সীমান্ত শেষ হয়, সেখান থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু হয়।”
তার মতে, সরকার ইমরান খানকে আদালতে হাজির করার নৈতিক সাহস হারিয়েছে।
শরিফ পরিবারের উদাহরণ টেনে ক্ষোভ
পিটিআই নেতা শফি জান বলেন—“রেকর্ডে আছে—একদিনে ১২০ জন নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেছে। তাহলে পিটিআই নেতাদের কেন আটকানো হচ্ছে?”
তিনি আরও জানান,পিটিআই পরিস্থিতি জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করতে জনগণের কাছে যাবে।
সরকারের পাল্টা বক্তব্য: ‘ভয় নেই, আইন অনুযায়ী সাক্ষাৎ হোক’
রানা সানাউল্লাহ বলেন—সরকারের কোনো ভয় নেই। তিনি সাক্ষাতের পক্ষে, তবে তা অবশ্যই আইন মেনে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া হতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিটিআই ২৬ নভেম্বর আবার বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
পিটিআই: ‘আমাদের আন্দোলনের জন্য সাক্ষাৎ প্রয়োজন নেই’
শফি জান বলেন—
“আন্দোলনের জন্য আমাদের সাক্ষাৎ লাগবে না। আলী আমিন বদলি হওয়ার বার্তাও আমরা আগেই পেয়েছি। আমরা অবস্থান কর্মসূচি করেছি শুধুমাত্র সাক্ষাৎ না-পাওয়া নিয়ে—এর বাইরে কিছু নয়।”
তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন—“আমি এই পদে এসেছি জনগণের ভোটে—যে ভোট ইমরান খানের নামেই পড়েছিল।”
