দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু ১৮৩ ছাড়াল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:২০, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু ১৮৩ ছাড়াল। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড—জুড়ে টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৮৩ ছাড়িয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও বহু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, খাদ্যসঙ্কট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ, মৃত ৯৪
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত সুমাত্রার তিন প্রদেশে ৯৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পদাং পারিয়ামান অঞ্চলে এক মিটার পর্যন্ত পানিতে টিকে থাকার লড়াই করছে মানুষ। বন্যার পানি না কমায় বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা শুক্রবারও পৌঁছাতে পারেননি।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানিয়েছেন, দ্বীপটির অনেক জায়গাই এখনও বিচ্ছিন্ন। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক পরিষ্কারে তৎপরতা চলছে। বন্যা–কবলিত এলাকায় বিমানযোগে ত্রাণ পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।

থাইল্যান্ডে মৃত্যু ৮৭, ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ লাখ মানুষ
থাইল্যান্ড সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের আটটি প্রদেশে বন্যায় মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮৭–তে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর হাত ইয়াইয়ে শুক্রবার বৃষ্টি থেমে গেলেও এখনও গোড়ালি সমান পানি, বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। বাড়িঘর হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার।
মালয়েশিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’
মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত মৃত্যু দুই। ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’ স্থলভাগে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়েছে, কিন্তু এখনো ভারি বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি বিদ্যমান বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। উত্তাল সমুদ্রে ছোট নৌযানকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

দেশটিতে ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন; বৃহস্পতিবার সংখ্যাটি ছিল ৩৪ হাজার। বন্যাকবলিত থাইল্যান্ডের হোটেলগুলোতে আটকা পড়া ১,৪৫৯ মালয়েশিয়ান নাগরিককে উদ্ধার করেছে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরও প্রায় ৩০০ জনের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান।
এক ঝড়ের প্রভাবে তিন দেশে বিপর্যয়
আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট বৈরি আবহাওয়ার কারণে মালাক্কা উপকূলেও একটি বিরল ঝড় তৈরি হচ্ছে, যা তিন দেশের জন্যই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
