৪ ডিসেম্বর ২ দিনের সফরে ভারত সফরে যাচ্ছেন পুতিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৫১, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৭:১২, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ৪-৫ ডিসেম্বর দিল্লি সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই সফরে তিনি অংশ নেবেন ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, পুতিন ও মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রুশ প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন এবং তাঁর সম্মানে রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন থাকবে।
২০২২ সালে রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার ভারত সফরে আসছেন পুতিন। ফলে তাঁর এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, ভূরাজনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যে ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক কোন পথে এগোয়—সেদিকে নজর থাকবে বিশ্বশক্তিগুলোর।
সূত্র বলছে, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি ও পুনর্মূল্যায়ন। এরমধ্যে থাকবে-কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা এবং জ্বালানি খাত, সামরিক প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো সহযোগিতা। আরও রয়েছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা—বিশেষত ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা।
রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, “এটি চলতি বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সফর হতে চলেছে। আমরা সফরকে সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তবে তাঁর ভাষ্যে, সম্ভাব্য চুক্তি বা সমঝোতা বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি নন তিনি।
এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষবার ভারত সফর করেছিলেন পুতিন। তবে এবার সফর হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়—ইউক্রেনে দুই বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ , রাশিয়ার ওপর মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা , ভারত–রাশিয়া তেল বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সমালোচনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, তেল বিক্রির টাকা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ব্যবহার করছে রাশিয়া। তার আরও দাবি, তার চাপের পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছে।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, পরিকাঠামোসহ নানা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। তাই পুতিনের এই সফর থেকে নতুন চুক্তি বা বোঝাপড়া হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাশিয়া–ভারত সম্পর্ক বৈশ্বিক কূটনীতিতে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। এবার যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে পুতিনের সফর আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি দিল্লিতে এসে কী বার্তা দেন, নতুন সমঝোতা হয় কি না—এটি নির্ধারণ করবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বহু ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।
