পেরুর সাবেক দুই প্রেসিডেন্টের দণ্ড
ক্যাস্তিয়োর ১১ বছর, ভিস্কারার ১৪ বছর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:০৯, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ক্যাস্তিয়ো ও মার্তিন ভিস্কারা। ছবি: সংগৃহীত
পেরুর রাজনৈতিক অঙ্গনে টানা দুই দিনে ঘটে গেল দুই ঐতিহাসিক রায়। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ক্যাস্তিয়োকে কংগ্রেস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা ও অসাংবিধানিক ক্ষমতা গ্রহণের অভিযোগে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এর ঠিক এক দিন আগে একই আদালত আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্তিন ভিস্কারাকে ঘুষ গ্রহণ–সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
ক্যাস্তিয়োর বিরুদ্ধে রায়: 'ক্ষমতা দখলের' অভিযোগ প্রমাণিত
লিমার বারবাদিয়ো কারাগারে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ শুনানিতে দুই–এক ভোটে দোষী সাব্যস্ত হন পেদ্রো ক্যাস্তিয়ো। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে কংগ্রেস ভেঙে দিয়ে ডিক্রি জারি করে দেশ পরিচালনা, বিচারব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এই ঘোষণার পরই সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ৫০ জন নিহত হন। একই দিনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিন বছর ধরে তিনি প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশনে ছিলেন—যা এখন সাজায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ অভিযোগে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত রায়ে বলেছে, ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি; বরং তিনি ‘ষড়যন্ত্র’ ও ‘অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের’ চেষ্টা করেছিলেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, ক্যাস্তিয়ো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কংগ্রেস ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং পরে মেক্সিকান দূতাবাসে গিয়ে ‘নিরাপত্তা চাইতে’ চেয়েছিলেন—যা তিনি অস্বীকার করেছেন।
আদালত ক্যাস্তিয়োর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও সাজা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্র্রী বেটসি চাভেজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উইলি হুয়ের্তা (তার কারাদণ্ড স্থগিত), এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা আনিবাল তোরেস। ক্যাস্তিয়ো বলেছেন, ভাষণের বিষয়বস্তু তার মন্ত্রীরা আগেই জানতেন না—সমস্ত দায় তিনি নিজেই নিচ্ছেন।
ভিস্কারার রায়: ঘুষকাণ্ডে ১৪ বছরের দণ্ড
বুধবার আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্তিন ভিস্কারাকে (২০১৮–২০২০) মোকে্গুয়া অঞ্চলের গভর্নর থাকাকালে নির্মাণ–ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন।
২০১১–২০১৪ মেয়াদে অবকাঠামো প্রকল্পে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগই তার পতনের সূচনা ঘটায়। এ মামলায় ভিস্কারার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ তিনি সবসময়ই অস্বীকার করেছেন।
রায়ের পাশাপাশি তাকে নয় বছরের জন্য জনপদে দায়িত্ব গ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ‘ভ্যাকুনাগেট’ কেলেঙ্কারিতে অনিয়মিতভাবে কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়ার কারণে তিনি আগেই ১০ বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষিত ছিলেন।
এক কারাগার, বহু প্রেসিডেন্ট
বারবাদিয়ো কারাগার এখন যেন পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্টদের কেন্দ্রস্থল। এখানেই আছেন ক্যাস্তিয়ো, এবং রায়ের পর ভিস্কারাকেও সেখানে ফের পাঠানো হতে পারে। একই কারাগারে আগে ছিলেন আলেহান্দ্রো তোলেদো ও ওলান্তা হুমালা—এবং এখান থেকেই গত বছর মৃত্যুবরণ করেন বিতর্কিত সাবেক শাসক আলবের্তো ফুজিমোরি।
শুধু দুই দিনে দুই সাবেক প্রেসিডেন্টের দণ্ডাদেশ—এটি পেরুর রাজনীতিতে নজিরবিহীন। গত সাত বছরে দেশটি সাতজন প্রেসিডেন্ট দেখেছে, যাদের প্রায় সবাই দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্তে জড়িয়েছেন।
