হংকংয়ে বহুতল ভবনে আগুনে নিহত বেড়ে ১২৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৪৪, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনটির সামনে ফুল রেখে নিহতদের স্মরণ করছেন। ছবি: সিএনএন
হংকংয়ের তাই পো শহরের আবাসিক বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে। আহত ৭৯ জনসহ উদ্ধার অভিযানে আহত আরও ১২ জন দমকলকর্মী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২০০ জন।
উত্তরাঞ্চলীয় জেলা শহরটির ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোরে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি আবাসিক টাওয়ারে। ভেতরে আটকা পড়ে অনেক পরিবার। দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট টানা প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সকাল দশটা ১৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা ভবনের নিম্নতলার কোনো দোকানের দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখছেন।
স্থানীয় সময় দুপুরে সরকারি ব্রিফিংয়ে হংকং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের ভেতর এখনো ১৬ জনের মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে ধোঁয়া ও তাপের কারণে উদ্ধারকর্মীদের প্রবেশে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অগ্নিনির্বাপক বাহিনীও জানিয়েছে, ভবনগুলোর ভেতর তীব্র ধোঁয়া ও গরমে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। ভেঙে পড়া অংশগুলোতে আটকে থাকা লোকজনের খোঁজ পেতে আরও ৪৮ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে।
জরুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন দুই হাজার ৩১১ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী। ৩৯১টি ফায়ার ইঞ্জিন ও ১৮৮টি অ্যাম্বুলেন্সও মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১২ জন দমকলকর্মী। এছাড়া এখনো কয়েক ডজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দেশটির সেক্রেটারি ফর সিকিউরিটি ক্রিস ট্যাং সাংবাদিকদের জানান, এখনো প্রায় ২০০ জনের অবস্থান অজানা। আগুনের পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, মৃত্যু আরও বাড়বে। ভবনগুলোতে বহু বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে’।
সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিখোঁজদের সন্ধান মিললে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুর্যোগের পর কর্তৃপক্ষের কাছে ৪৬৭টি নিখোঁজ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা পৌঁছে। তাদের ৩৯ জনকে এখন পর্যন্ত মৃত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি সবাইকে চিহ্নিতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্মকর্তারাও জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের ৮৯ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতে ডিএনএ নমুনাসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
নিরাপত্তা প্রধান তাং পিং-কেউং জানান, অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলোর জানালার বাইরে রাখা স্টাইরোফোমের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, আগুনটি ভবনের নিচের তলা থেকে শুরু হয়ে ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিল যে, একপর্যায়ে তাপমাত্রা ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে আগুন নেভানোর পরেও কিছু জায়গায় তা পুনরায় জ্বলে উঠেছিল। তবে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়নি। তাদের মতে, ভবনের ভেতরের আগুন নেভাতে আকাশ থেকে পানি ফেলা অকার্যকর। এছাড়া ড্রোনও ব্যবহার করা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযানে কীভাবে ড্রোন কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ আজই ওয়াং ফুক কোর্ট ভবনে প্রবেশ করে আলামত সংগ্রহ করবে। তদন্ত শেষ হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ওয়াং ফুক কোর্টের সামনে এখন শোকের আবহ। স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনটির সামনে ফুল রেখে নিহতদের স্মরণ করছেন। অনেক পরিবার প্রিয়জনের কোনো খোঁজ না পেয়ে হাসপাতালে ও অস্থায়ী হেল্প সেন্টারে ছুটছেন।
