হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৪৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
হংকংয়ের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭৬ জন, যাদের মধ্যে ১১ জন দমকল কর্মীও রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৭ বছরের এক ফায়ারফাইটার।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোরে ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ আপডেটে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আট ব্লকের বিশাল আবাসিক কমপ্লেক্সজুড়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবনগুলোর চারপাশে নির্মাণকাজের জন্য ব্যবহৃত বাঁশের মাচা ও প্লাস্টিকের জাল আগুনের লেলিহান শিখাকে আরও তীব্র করে তোলে। দাহ্য উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বলতে থাকে।
আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ভবনগুলোর বড় অংশ ভষ্মীভূত। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে পুড়ে যাওয়া কাঠামোর ভেতর উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে হংকং কর্তৃপক্ষ। নির্মাণ–সংক্রান্ত অনিয়ম, বাঁশের মাচা, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা জানিয়েছে, কমপ্লেক্সটির সংস্কারকাজ সংক্রান্ত অনিয়মের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এর আগে পুলিশ আগুন লাগার স্থানে অসাবধানতাবশত ফোমের প্যাকেজিং ফেলে রাখার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তাই পোর ওয়াং ফুক কোর্টের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা কোনও অ্যালার্ম বাজতে শুনেননি। আগুন ছড়িয়ে পড়লে বাধ্য হয়ে তারা নিজেরাই দরজায় দরজায় গিয়ে প্রতিবেশীদের সতর্ক করেন।
‘আগুন খুব দ্রুত ছড়াচ্ছিল,’ বলেন স্থানীয় বাসিন্দা সুইন। ‘একটি হোস পাইপ দিয়ে কয়েকটি ভবনের আগুন নেভানোর চেষ্টা হচ্ছিল—আমার মনে হয়েছে সেটা খুবই ধীর।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডোরবেল বাজানো, দরজায় কড়া নাড়া, সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলা—পরিস্থিতি এমনই ছিল।’
অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয়রা ছাড়াও শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন ৩৮ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক স্টোন। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়—হংকংয়ের মানসিকতা হলো, একজন বিপদে পড়লে সবাই তার পাশে দাঁড়ান।’
