তাজিক–আফগান সীমান্তে ড্রোন ও বন্দুক হামলায় নিহত ৩ চীনা নাগরিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬:৫৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
তাজিকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে এক ভয়াবহ হামলায় তিন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাজিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে চীনা খনিশ্রমিকদের ওপর বন্দুক হামলা ও গ্রেনেডবাহী ড্রোন আক্রমণ চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন চীনা কর্মী প্রাণ হারান।
তাজিকিস্তান বলছে, আফগানিস্তানের ভেতরে অবস্থানকারী ‘অপরাধী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী’ সীমান্ত অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায়। তবে দেশটি কারা এই হামলা ঘটিয়েছে—সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গোষ্ঠীর নাম প্রকাশ করেনি।
তাজিকিস্তান–তালেবান উত্তেজনার দীর্ঘ ছায়া
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরলে তাজিকিস্তান প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমোন বারবার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং সীমান্ত অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আফগানিস্তানে বসবাসকারী জাতিগত তাজিকদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও কাবুলকে সতর্ক করে আসছেন।
গত কয়েক মাসে দুই দেশের সীমান্তে একাধিক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি এই সীমান্তবর্তী পর্বতাঞ্চলকে নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে।
ড্রোনে গ্রেনেড, সঙ্গে সরাসরি গুলি—হামলার কৌশল নতুন মাত্রা দিল
তাজিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলাকারীরা প্রথমে বন্দুক দিয়ে গুলি ছোড়ে এবং তার পরপরই গ্রেনেডবোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে শ্রমিকদের টার্গেট করে। সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হামলাকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন চীনা কর্মীরা ছিল টার্গেটে?
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাজিকিস্তানের খনিশিল্প, খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করে আসছে। সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় চীনা কোম্পানির বেশ কিছু খনি ও প্রকল্প রয়েছে।
গত বছরও আফগান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এক চীনা শ্রমিক নিহত হন। তাই নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে সীমান্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য হতে পারে।
তাজিকিস্তানের সতর্কবার্তা
তাজিকিস্তান বৃহস্পতিবার জানায়—সীমান্তের ওপারে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো “ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত জোনে অস্থিরতা তৈরি করছে।” দেশটি সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং ঘটনাটি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
