শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

| ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ হয়নি, সতর্ক করল অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১:৩০, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ হয়নি, সতর্ক করল অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ছবি: সংগৃহীত

ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মাঝেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—গাজায় ‘গণহত্যা’ এখনও থামেনি, বরং ইসরায়েল নিয়মিতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। সংস্থাটির দাবি, গত সাত সপ্তাহে ইসরাইল অন্তত ৫০০ বার যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গ করেছে। খবর—আল জাজিরা।

অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি-জেনারেল অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, ইসরায়েলের নীতি বা অবস্থানে পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ নেই। উল্টো মানবিক সাহায্য ও জরুরি সেবার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে ফিলিস্তিনিদের ‘শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন’ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে দেশটি। তার ভাষায়, “বিশ্বের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই, ইসরাইলের গণহত্যা এখনো শেষ হয়নি।”

বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল ও মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। গাজা সিভিল ডিফেন্সের দাবি—এসব হামলা সরাসরি যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন।

একই দিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্বালকিলিয়া, তুবাস, হেবরন, তুলকারেম ও নাবলুসে অভিযান চালিয়ে বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তুবাসে অভিযানকালে অন্তত ২৫ জনকে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।

দক্ষিণ গাজার ইয়েলো লাইনের টানেলে আটকে থাকা কয়েক ডজন হামাস যোদ্ধার ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরাইল বলছে—গত সপ্তাহে তারা টানেলে থাকা যোদ্ধাদের অন্তত ২০ জনকে হত্যা করেছে। হামাসের দাবি, এসব আক্রমণ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

গাজায় আন্তর্জাতিক অস্ত্রধারী স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন, অস্থায়ী আন্তর্জাতিক প্রশাসন ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা—এসব নিয়ে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা কায়রোতে চলছে। তুরস্ক, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

তবে ইসরায়েলের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ফেলো মোহাম্মদ শেহাদার মতে—ইসরায়েল এখনও গাজাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অযোগ্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার পরিকল্পনা ত্যাগ করেনি।

অ্যাগনেস কালামার্ড সতর্ক করে বলেন—যুদ্ধবিরতি যেন ইসরায়েলের চলমান নৃশংসতার আড়াল না হয়।

তার আহ্বান—ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো,গাজা থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা।

সংস্থার মতে, এই পদক্ষেপই গাজায় বসবাসরত মানুষের জীবন রক্ষার জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ:

খালেদা জিয়ার অবস্থা বিদেশ নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয় : ফখরুল
তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু
ব্যবসায়ীদের কমফোর্ট জোন দিতে ব্যর্থ রাজনীতি: জামায়াত আমির
অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি
ই-রিটার্নে রেকর্ড: ২০ লাখের বেশি রিটার্ন দাখিল
খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর
ফ্লাই করার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া—এভারকেয়ার থেকে জানালেন মান্না
এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ বিএনপির
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে নিতে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত
খালেদা জিয়াকে নিয়ে মুশফিকুলের আবেগঘণ স্মৃতিচারণ ‘আমার ব্যক্তিগত ঋণ’
‘লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়াবেন না’ — মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় উপদেষ্টার পরিষদের সভায় দোয়া
তফসিল কবে জানালেন সিইসি নাসির উদ্দিন
দুটি বিতর্কিত অভিযানের পর র‍্যাব-১৫–এ ‘গণবদলি’
বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অনন্য অনুপ্রেরণা: নাহিদ ইসলামের বিবৃতি
দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বললেন তারেক রহমান