শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

| ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

ক্রিমিয়ায় বোমা হামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:৩৯, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ক্রিমিয়ায় বোমা হামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন রাশিয়ার

রাশিয়ার একটি সামরিক আদালত ক্রিমিয়া সেতুতে ট্রাক বোমা হামলার অভিযোগে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার একটি সামরিক আদালত ক্রিমিয়া সেতুতে ট্রাক বোমা হামলার অভিযোগে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ে আদালত জানায়, অভিযুক্তরা একটি সংগঠিত চক্রের সদস্য ছিলেন, যারা ইউক্রেনকে সহায়তা করে ২০২২ সালের আলোচিত হামলাটি সংঘটিত করেছিল। ঘটনাটি রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও লজিস্টিক রুটে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সৃষ্টি করেছিল। খবর—রয়টার্স।

রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়াকে মূল ভূখণ্ড রাশিয়ার সাথে যুক্ত করা ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর অংশবিশেষে ২০২২ সালের অক্টোবরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে একটি ট্রাক আগুনে পুড়ে যায় এবং সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে ট্রাকচালকসহ চার পথচারী প্রাণ হারান।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ পরবর্তীতে হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, রাশিয়ার দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অংশ হিসেবেই সেতুটি টার্গেট করা হয়েছিল।

রুশ প্রসিকিউশন জানায়, অভিযুক্তদের সহযোগিতায় ইউক্রেন থেকে বুলগেরিয়া, আর্মেনিয়া ও জর্জিয়া হয়ে সড়কপথে বিস্ফোরক পরিবহন করা হয়। এসবিইউ প্রধান ভাসিল মালিউক ২০২৩ সালে জানান, বিস্ফোরকগুলো বড় আকারের প্লাস্টিক ফিল্ম রোলের ভেতরে থাকা ধাতব সিলিন্ডারে লুকানো ছিল, যা সাধারণ পণ্যের মতোই সীমান্ত অতিক্রম করানো হয়।

তার দাবি—“অপারেশনে আরও কয়েকজনকে ব্যবহার করা হলেও তারা প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতেন না।”

মামলাটি পরিচালিত হয় সম্পূর্ণ বন্ধ দরজার ভেতরে। আদালতে দাঁড়িয়ে অভিযুক্তরা বারবার নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তাদের একজন জানান, “আমরা সবাই মিলে মিথ্যা শনাক্তকারী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। তদন্তে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করেছি।”

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি ছিল ভিন্ন। রুশ প্রসিকিউটরদের ভাষ্য—এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পরিবহনকারীরা বিষয়টি জানতেন, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

রায় ঘোষণার পর কাচের খাঁচার ভেতর দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত আটজনই আবার বলেন, “আমরা নির্দোষ।” আদালত অবশ্য তাদের যুক্তি গ্রহণ না করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি ছিল এই সেতুটি। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজে ট্রাক চালিয়ে এর উদ্বোধন করেন। রুশ সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও রসদ পরিবহনের জন্য সেতুটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ:

খালেদা জিয়ার অবস্থা বিদেশ নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয় : ফখরুল
তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু
ব্যবসায়ীদের কমফোর্ট জোন দিতে ব্যর্থ রাজনীতি: জামায়াত আমির
অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি
ই-রিটার্নে রেকর্ড: ২০ লাখের বেশি রিটার্ন দাখিল
খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর
ফ্লাই করার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া—এভারকেয়ার থেকে জানালেন মান্না
এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ বিএনপির
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে নিতে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত
খালেদা জিয়াকে নিয়ে মুশফিকুলের আবেগঘণ স্মৃতিচারণ ‘আমার ব্যক্তিগত ঋণ’
‘লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়াবেন না’ — মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় উপদেষ্টার পরিষদের সভায় দোয়া
তফসিল কবে জানালেন সিইসি নাসির উদ্দিন
দুটি বিতর্কিত অভিযানের পর র‍্যাব-১৫–এ ‘গণবদলি’
বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অনন্য অনুপ্রেরণা: নাহিদ ইসলামের বিবৃতি
দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বললেন তারেক রহমান