চীনের সঙ্গে উত্তেজনা আর না বাড়াতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:০৯, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচিকে চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা আর না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই সপ্তাহে টেলিফোন আলাপের সময় তিনি বিষয়টি সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করে সংঘাতমুখী বক্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নিশ্চিত করেছে আলোচনায় অংশ নেয়া জাপান সরকারের দুটি সূত্র।
তাইওয়ানকে ঘিরে তাকাইচির সাম্প্রতিক মন্তব্যের জের ধরেই টোকিও–বেইজিং সম্পর্ক নতুন করে টানাপড়েনে পড়ে। নভেম্বরে জাপানি সংসদে তিনি ঘোষণা করেন,“তাইওয়ানের ওপর চীনের সামরিক আগ্রাসন ঘটলে জাপানও সেখানে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।”
তার এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসতেই বেইজিং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। চীন তাদের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে। পাল্টা হিসেবে জাপানও চীনে তাদের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার প্রভাব পড়ে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কেও।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফোনালাপে ট্রাম্প তাকাইচিকে বলেন, তিনি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে দেখতে চান না। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো দাবিও তোলেননি, এমনকি বেইজিংয়ের মতো তাকাইচিকে প্রকাশ্য মন্তব্য প্রত্যাহারের কথাও বলেননি।
জাপান সরকার পরিষ্কার জানায়, তাকাইচির বক্তব্য তাদের দীর্ঘদিনের নীতি থেকেই উঠে এসেছে, নতুন কিছু নয়।
সরকারি সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেন। শি ট্রাম্পকে জানান, তাইওয়ানের চীনে ‘পুনরায় একীভূত হওয়া’ তাদের বিশ্বদৃষ্টিতে কেন্দ্রীয় বিষয়।
চিরায়তভাবে তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল দাবি করে চীন, যদিও গণতান্ত্রিক তাইওয়ান বেইজিংয়ের কর্তৃত্ব অস্বীকার করেছে।
আগামী এপ্রিলেই চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সফরে তাইওয়ান ইস্যু আলোচনায় আসবে কিনা তা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। বরং বলেছেন,“চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অসাধারণভাবে ভালো, যা জাপানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”
জাপানের কূটনীতিকরা বরাবরই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে, ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিতে গিয়ে তাইওয়ান ইস্যুতে সমর্থন কমিয়ে দিতে পারেন। তাদের শঙ্কা—এতে বেইজিং আরও উৎসাহিত হতে পারে এবং পূর্ব এশিয়া আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
