এবার আরেক নারী সাংবাদিককে ‘কুৎসিত’ বললেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৫২, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
এবার আরেক নারী সাংবাদিককে ‘কুৎসিত’ বললেন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নারী সাংবাদিককে অবমাননাকর মন্তব্যের মাধ্যমে সমালোচনার কেন্দ্রে। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি বিশদ প্রতিবেদনে নিজের বয়স, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সাংবাদিক কেটি রজার্সকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প লিখেছেন—তিনি “তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক” এবং “ভেতর-বাহির দুই দিক থেকেই কুৎসিত”।
এই মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে বুধবার ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে। প্রতিবেদনের দুই লেখকের একজন ডিলান ফ্রেডম্যান হলেও তাকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র নারী সাংবাদিক কেটি রজার্সকে টার্গেট করায় ট্রাম্পের আচরণকে নতুন করে ‘জেন্ডার–সংবেদনশীল আক্রমণ’ বলে সমালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম মহল।
সম্প্রতি ট্রাম্পের বয়স, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল ও শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সেখানে উল্লেখ ছিল—অক্টোবরের শুরুতে ট্রাম্প গোপনে একবার এমআরআই স্ক্যান করিয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ৭৯ বছর বয়সি ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, “নিউইয়র্ক টাইমস একটি ব্যর্থ হতে থাকা প্রতিষ্ঠান।” পাশাপাশি নিজের ‘জনমত জরিপে সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা’ থাকার কথাও জানান—যদিও বিভিন্ন স্বাধীন জরিপে এই দাবি সত্য নয় বলে দেখা গেছে।
ট্রাম্প লেখেন—“কেটি রজার্সকে আমাকে নিয়ে বাজে কথা লেখার জন্যই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সে একজন তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক; ভেতর ও বাইর দুই দিক থেকেই কুৎসিত।”
এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আরেক নারী সাংবাদিককে তিনি “চুপ করো, পিগি” বলে ধমক দিয়েছিলেন। ফলে নতুন মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রে নারী সাংবাদিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের আরও এক উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসের পক্ষ থেকে কঠোর বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে—“দ্য টাইমসের প্রতিবেদনটি পুরোপুরি তথ্যভিত্তিক। অপমান বা ব্যক্তিগত আক্রমণ সত্যকে বদলাতে পারে না। ভয়ভীতি দেখানোয় আমাদের সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহে পিছিয়ে যাবেন না।”
আরও বলা হয়, “কেটি রজার্সের মতো নিবেদিত সাংবাদিকরাই দেখিয়ে দেন—স্বাধীন গণমাধ্যম কীভাবে জনগণকে তাদের সরকার ও নেতাদের বিষয়ে সচেতন করে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনি ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় মামলাটি খারিজ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে, প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পাল্টা বিবৃতিতে বাইডেন প্রশাসনকে কটাক্ষ করে বলেন—“ট্রাম্প প্রশাসন সব সময়ই স্বচ্ছ।”
