গিনি-বিসাউয়ে প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:৩৬, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
গিনি-বিসাউয়ে প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণ। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম আফ্রিকার ছোট দেশ গিনি-বিসাউয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ রাতারাতি ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চলমান প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালোকে, পাশাপাশি প্রধান বিরোধী নেতা ডমিঙ্গোস সিমোয়েস পিরেইরাকেও।
দেশজুড়ে কারফিউ, সীমান্ত বন্ধ এবং নির্বাচন স্থগিত করে সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে—“দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন উচ্চ সামরিক কমান্ডের হাতে।”
রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এমবালো এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দো দিয়াস—দুজনই পৃথকভাবে নিজেদের জয়ী দাবি করেন। বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তার আগেই রাজধানী বিসাউয়ের প্রেসিডেন্ট প্যালেস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন ঘিরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে সেনা কর্মকর্তারা নিজেদের “উচ্চ সামরিক কমান্ড” হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন—“দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের দায়িত্ব।”
সেনাবাহিনীর এই ঘোষণার পরপরই সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
কারফিউ, সীমান্ত বন্ধ, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, আকাশ, স্থল ও নৌ—সব সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ, রাত্রিকালীন কারফিউ কার্যকর ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের পদক্ষেপ চলছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, সেনা অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের প্রধান ডেনিস এন’কানহা, যিনি প্রেসিডেন্ট এমবালোর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তিনিই এখন তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এএফপিকে টেলিফোনে এমবালো জানিয়েছেন, “আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আমি এখন জেনারেল স্টাফ হেডকোয়ার্টারে আছি।”
জানা গেছে, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান বিরোধী দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচনের ফলকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা। উত্তপ্ত পরিবেশের সুযোগে প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের মধ্যকার একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী অভ্যুত্থান ঘটায়।
এ নিয়ে আফ্রিকার সাব-সাহেল অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গিনি-বিসাউও নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
১৯৭৪ সালে পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর দেশটি বহুবার অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান চেষ্টার মধ্য দিয়ে গেছে।
