দুর্নীতির দায়ে পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্টের ১৪ বছরের কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:১২, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
পেরুতে বহুল আলোচিত দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। বুধবার (২৬ নভেম্বর) লিমার একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করে—যা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত দুর্নীতি-ঘটনার এক নতুন অধ্যায়।
তদন্ত ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় মেকেগুয়া অঞ্চলের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বিনিময়ে বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ ৭৬ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষ গ্রহণ করেন ভিজকারা। এই অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দীর্ঘমেয়াদি সাজার আদেশ দেন।
তবে ভিজকারা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন—এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ, ন্যায়বিচার নয়। রায় ঘোষণার পর এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এটি ন্যায়বিচার নয়, প্রতিশোধ। কিন্তু এভাবে তারা আমাকে হারাতে পারবে না।”
ভিজকারার আইনজীবীরা ইতোমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করেছেন। তারা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ছিল, যা উচ্চ আদালতে তুলে ধরা হবে।
এদিকে তার বড় ভাই মারিও ভিজকারা আসন্ন ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘পেরু ফার্স্ট’ দলের হয়ে লড়াইয়ে নামছেন। ভাইয়ের রাজনৈতিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে ভিজকারা বলেন,“সব উত্তর ভোটের বাক্সেই আছে। লড়াই চালিয়ে যাবে আমার ভাই।”
২০১৮ সাল থেকে পেরুর রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। মাত্র সাত বছরে ৬ জন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অভিশংসনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।
ভিজকারাকে যে লিমার কারাগারে রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ইতোমধ্যে আরও তিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বন্দি আছেন—আলেজান্দ্রো টলেডো (দুর্নীতির মামলা),ওলান্তা হুমালা (দুর্নীতির মামলা) ও পেদ্রো কাস্তিলো (বিদ্রোহ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচারাধীন)।
