ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ড কার্যকরের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:২০, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
ব্রাজিলে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টা, ভোটে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং গণতন্ত্র বিপর্যয়ের গুরুতর অভিযোগে দণ্ডিত সাবেক প্রেসিডেন্ট জেয়ার বলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এ নির্দেশ দেন। আদালত জানায়, দণ্ডের বিরুদ্ধে বলসোনারোর আপিল করার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন তার সাজার কার্যকর ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
৭০ বছর বয়সী বলসোনারোকে ব্রাসিলিয়ার একটি পুলিশ ব্যারাকে ১২ স্কয়ার ফুট আয়তনের ছোট কক্ষেই রাখা হবে। অস্থায়ী গৃহবন্দি অবস্থা থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে গত শনিবার। আগস্ট থেকে গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় তার পায়ে থাকা ইলেকট্রনিক অ্যাংকেল ট্যাগ কেটে ফেলার চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জেয়ার বলসোনারো—লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতৃত্বদানকারী এই ব্যক্তিই নির্বাচনে হেরে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকাতে চেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বিচারকদের মতে, নির্বাচনে জয়ী লুলা দা সিলভার শপথ গ্রহণ আটকে দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলসোনারো।
ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে লুলা ও তার সহপ্রার্থী গেরালদো আল্কমিনকে হত্যার পরিকল্পনাও করেন তিনি।
তবে সামরিক বাহিনীর প্রধানরা অবৈধ নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসার পর লুলা সরকারের অধীনে বলসোনারো ও তার ছয়জন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়।
বিচারপতি মোরায়েস রায়ের মন্তব্যে বলেন—“এটি ছিল ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও দখলীকৃত শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট।”
সুদীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সেপ্টেম্বরে বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বলসোনারোর পাশাপাশি তার ছয় শীর্ষ সহযোগীকেও তাদের কারাদণ্ড ভোগ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান উসকানি, ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সূত্র : বিবিসি
