মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েকটি শাখাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:০০, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম ব্রাদারহুডের মিশর, লেবানন ও জর্ডানভিত্তিক কয়েকটি শাখাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, ব্রাদারহুড-সংশ্লিষ্ট এসব শাখা সহিংসতা, অস্থিতিশীলতা ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আদেশে বিশেষভাবে মিশর, জর্ডান ও লেবানন—এই তিন দেশের ব্রাদারহুড শাখাগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি—এসব সংগঠন সহিংসতা পরিচালনা করে,সহিংসতাকে সমর্থন বা অর্থায়ন করে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করে।
ওই সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ জব্দ করতে পারে,তাদের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারে, এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
এখন প্রেসিডেন্টের আদেশ অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
মুসলিম ব্রাদারহুড: সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯২৮ সালে মিশরে শিক্ষক হাসান আল-বান্নার প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুড একটি প্যান-ইসলামিস্ট রাজনৈতিক আন্দোলন। এর লক্ষ্য—ইসলামী নীতির পুনর্জাগরণের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা ও পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলা করা।
এই সংগঠন আরব বিশ্বের বহু দেশে সক্রিয়, তবে রাজনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন দেশে এদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যেসব দেশে আগেই নিষিদ্ধ ছিল
মিশর ২০১৩ সালে ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে।
জর্ডান চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, অভিযোগ তোলে—গোষ্ঠীটি অস্ত্র তৈরি ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে।
ফ্রান্সও এর বিস্তার ঠেকাতে কৌশলগত উদ্যোগের নির্দেশ দিয়েছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের দূত ড্যানি ড্যানন। তিনি বলেছেন—এটি শুধু ইসরায়েলের জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’।
সূত্র: আল-জাজিরা
