ট্রাম্প–পুতিন শান্তি পরিকল্পনায় ডনবাস ছাড় নিয়ে বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:৪৬, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি পরিকল্পনায় “জমি বিনিময়ের” সম্ভাব্য প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তীব্র আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডনবাস অঞ্চলের (ডোনেস্ক–লুহানস্ক) সম্ভাব্য ছাড় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন—এই ছাড় রাশিয়ার সামরিক ও কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও উসকে দিতে পারে।
হোয়াইট হাউস বলছে—সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, “যে কোনো চুক্তিতে ইউক্রেন, ইউরোপ ও রাশিয়ার জন্য পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের আর্থিক সুযোগ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে রাশিয়ারও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনরায় যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি করা উচিত।
‘দুই পক্ষকেই কষ্টকর ছাড় দিতে হবে’—রুবিও
মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য “দুই পক্ষকেই কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় ছাড়” দিতে হবে।
কিন্তু এটি কি বাস্তবে যুদ্ধ থামাতে পারবে, নাকি ভবিষ্যতের বড় সংঘাতের বীজ বপন করবে—সেই প্রশ্নই এখন প্রধান আলোচ্য।
ডনবাস ছেড়ে দেওয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক: ISW-এর জর্জ ব্যারোস
ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)–এর রাশিয়া ও জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স লিড জর্জ ব্যারোস বলেছেন ডনেস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল হলো ইউক্রেনের “সবচেয়ে সুরক্ষিত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বলয়”।
তিনি বলেন “রাশিয়া যুদ্ধ করে এই এলাকা নিতে পারবে না বলেই কূটনৈতিকভাবে তা আদায় করার চেষ্টা করছে। যদি এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়াকে দেওয়া হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ইউক্রেনে ঢোকার দরজা খুলে যাবে।”
ব্যারোস সতর্ক করেন—এই ছাড় ভবিষ্যতে রাশিয়ার আরও বড় আগ্রাসনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
রাশিয়া ‘ডোনেস্ক পুরোপুরি’ চায়
ব্যারোস বলেন, রাশিয়ার এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো ডোনেস্কের পুরো অংশ—যা যুদ্ধক্ষেত্রে দখল করা “অত্যন্ত কঠিন”।
ট্রাম্প বলছেন—‘ইউক্রেন তো হারছেই’, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—‘এটা সত্য নয়’
ফক্স নিউজ রেডিওকে ট্রাম্প জানান—ইউক্রেন এখন “যাই হোক জমি হারাচ্ছে”, যুদ্ধ চললে “আরও দ্রুত” হারাবে।
কিন্তু আইএসডব্লিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী—রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীন ডোনেস্ক অংশ দখল করতে ৬৩৫ থেকে ৭২০ দিন লাগবে। TIME এই হিসাব স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
ব্যারোস বলেন— “ইউক্রেনের যেভাবে গভীর প্রতিরক্ষা লাইন তৈরি হয়েছে, রাশিয়ার অগ্রগতি এই সময়ের চেয়েও ধীরে হতে পারে।”
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো চার্লস কাপচান টাইমক–কে বলেছেন— “ডনবাস হলো ইউক্রেনের শিল্পভিত্তি, খনিজসম্পদ ও কৃষি উৎপাদনের কেন্দ্র। এই অঞ্চল রাশিয়াকে দেওয়া মানে পুতিনের ‘মাদার রাশিয়া’–কেন্দ্রিক আদর্শিক যুদ্ধকে পুরস্কৃত করা।”
তিনি উল্লেখ করেন—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক রুশ জাতিগোষ্ঠী পাঠিয়েছিল, আর এখন পুতিন দাবি করছেন—তাদের রক্ষা করতে হবে, যদিও তথ্যভিত্তিকভাবে তা সত্য নয়।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউট (রাশি)–এর গবেষক নাটিয়া সেস্কুরিয়া টাইমকে–কে বলেন, “ডনবাস অঞ্চল রাশিয়াকে দিলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা পূরণ হবে। এতে ইউক্রেন ভবিষ্যতের হামলায় আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।” তথ্যসূত্র: টাইম
