যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা, আরও ৪ ফিলিস্তিনি নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৪২, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলা থেমে নেই।
সোমবার (২৪ নভেম্বর( দিনভর ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান, কামান ও ড্রোন হামলায় শিশুসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থানের ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণ গাজার বানি সুহেইলায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন, অপরদিকে উত্তর গাজা সিটিতে অবিস্ফোরিত বোমা বিস্ফোরণে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও কয়েকজন শিশু। নিহত বাকি দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী বিমান, হেলিকপ্টার ও কামান হামলা চালায়। বেইত লাহিয়ায় ‘হলুদ রেখা’র বাইরের অংশেও তীব্র গোলাবর্ষণ হয়েছে। দক্ষিণে রাফাহর উত্তর–পূর্বে এবং খান ইউনুস সংলগ্ন এলাকায় ট্যাংক হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
গাজার পূর্বাঞ্চলে ‘হলুদ রেখা’র বাইরের এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি হামলা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বহু পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

একই পরিবারের ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার
মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে আগের এক হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের আটজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে সিভিল ডিফেন্স। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৫৮২টি মরদেহ, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৯ হাজারের বেশি লোক নিখোঁজ।
এদিকে নুসাইরাত শিবিরে একজন ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ উদ্ধারের দাবি করেছে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ। চুক্তি অনুযায়ী মরদেহ শনাক্ত হলে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েলকে ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফিরিয়ে দিতে হবে।
হামাস জানায়, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে অনেক বন্দির মরদেহ উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জিএইচএফ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত জিএইচএফ—যা জাতিসংঘের বাইরে সমান্তরাল ত্রাণব্যবস্থা পরিচালনা করত—কার্যক্রম সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলোর আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনী ও বিদেশি ঠিকাদারদের গুলিতে ৮৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মধ্যে সংস্থাটি কার্যক্রম বন্ধ করে।
পশ্চিম তীরে অভিযান—নিহত ১, আটক ১৬
অস্ত্রবিরতির মধ্যেও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ভোরে তুলকারেম, বেথলেহেম, রামাল্লাহ, জেনিন ও তুবাস অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ১৬ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়।
রবিবার রাতে রামাল্লাহর দেইর জরিরে ইসরায়েলি গুলিতে ২০ বছর বয়সী আইনশাস্ত্রের ছাত্র বারাআ খাইরি আলি মালি নিহত হন। স্থানীয়রা জানান, বসতি স্থাপনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে সেনারা এসে নির্বিচারে গুলি চালায়। কফর কাদ্দুমে দুই নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং একই এলাকায় দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে।
আতার–বিরজেইত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি জমিতে আগুন দিয়েছে। এতে বহু জমি ও জলপাই গাছ পুড়ে যায়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১ হাজার ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত, যার মধ্যে ২২৩ শিশু। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি, আর ২০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা বৃদ্ধি
রোববার ইসরায়েলি হামলায় নিহত হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাইয়ের জানাজা সোমবার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের নেতা মাহমুদ ক্বোমতি এ ঘটনাকে অস্ত্রবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত হানলে বড় ধরনের ইসরায়েলি আগ্রাসনের ঝুঁকি রয়েছে; আবার প্রতিক্রিয়া না জানালে সংগঠনের প্রতিরোধক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
