ব্রিটিশ উপকূলে রুশ যুদ্ধজাহাজ আটক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:০৩, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
ব্রিটিশ উপকূলে রুশ যুদ্ধজাহাজ। ছবি: সিএনএন
যুক্তরাজ্য উপকূলের আশপাশে রাশিয়ার নৌ-চলাচল বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত দুই বছরে এ কার্যক্রম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর টহলজাহাজ এইচএম সিভার্ন ইংলিশ চ্যানেলে রুশ যুদ্ধজাহাজকে আটক ও নজরদারি করেছে।
আজ সোমবার সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রিটিশ উপকূলে রুশ যুদ্ধজাহাজ আটক করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে টহলজাহাজটি রুশ নৌবাহিনীর করভেট আরএফএন স্টইকি এবং জ্বালানি পরিবহন ট্যাংকার ইলনিয়া কে ছায়া অনুসরণ করে থামায়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ জাহাজটি ব্রিটানির উপকূলে পৌঁছে দায়িত্ব একটি ন্যাটো মিত্র দেশের কাছে হস্তান্তর করে।
মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়—এইচএম সিভার্ন খুব কাছ থেকে স্টইকি -কে অনুসরণ করছে। ব্রিটিশ বাহিনী বলছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড এখন তাদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর আটলান্টিকে নজরদারি বাড়াল ন্যাটো
রাশিয়ার বাড়তি নৌ-চলাচলের কারণে শুধু উপকূলীয় পাহারা নয়—উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিকেও নজরদারি জোরদার করেছে যুক্তরাজ্য।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তিনটি পসেইদোন পি-৮এ নজরদারি বিমান আইসল্যান্ডে মোতায়েন করেছে। এসব বিমান রুশ সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত ও নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রুশ গুপ্তচরজাহাজ ইয়ান্তারের বিরুদ্ধে ‘বিপজ্জনক আচরণের’ অভিযোগ
এ ঘটনার কয়েক দিন আগেই যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি দাবি করেন, স্কটল্যান্ডের উপকূলে নজরদারি চলাকালে রুশ গুপ্তচরজাহাজ Yantar ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের পাইলটদের দিকে লেজার তাক করেছিল।
হিলি বলেন, এটি ছিল অর্থাৎ বেপরোয়া ও বিপজ্জনক আচরণ।
ব্রিটেন জানিয়েছে—এ ধরনের কার্যক্রম তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয় এবং প্রয়োজন হলে তারা সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
রুশ দূতাবাসের পাল্টা অভিযোগ
লন্ডনে রুশ দূতাবাস ব্রিটিশ এ অভিযোগকে “মিলিটারিসটিক হিসটিরিয়া” বলে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করেছে—মস্কো যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা হুমকির আগ্রহী নয়, বরং ব্রিটেনই অকারণে সামরিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
নিরাপত্তা হুমকি বাড়ার সাথে সাথে প্রতিরক্ষা বাজেটের চাপ
নতুন বাজেট ঘোষণার ঠিক আগে ব্রিটেনে বাড়ছে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর দাবি।প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার আগেই রাশিয়া, চীন ও ইরানের হুমকি মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি এখন বড় ঘাটতির মুখে—এ অবস্থায় কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের মধ্যেও প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো সরকারের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত হবে।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনী গত কয়েক বছরে নর্ডিক ও ইউরোপীয় উপকূলে তাদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়িয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে:রুশ সাবমেরিনের উত্তর আটলান্টিক মিশন বেড়েছে, নর্ডিক দেশগুলোতে ঘন ঘন আকাশ ও নৌ-হুমকির ঘটনা ঘটছে ও ব্রিটিশ ও ন্যাটো বাহিনী নিয়মিতভাবে রুশ জাহাজকে চিহ্নিত করছে
ইংলিশ চ্যানেলের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বাণিজ্যিক জলপথে রুশ যুদ্ধজাহাজের এমন গতিবৃদ্ধি পশ্চিমাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
