নিজের প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে যা বললেন ডেভিড ক্যামেরন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:৫৫, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাজ্যের লর্ডস সভার সদস্য ডেভিড ক্যামেরন। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাজ্যের লর্ডস সভার সদস্য ডেভিড ক্যামেরন জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যে স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালুর দাবি তুলেছেন। দ্য টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন এ তথ্য প্রকাশ করেন।
৫৯ বছর বয়সী ক্যামেরন জানান, তার স্ত্রী সামান্থা ক্যামেরন তাকে প্রোস্টেট ক্যানসারের জন্য পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। প্রথমে করা পিএসএ টেস্টে তার রিপোর্ট অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ আসে।
ক্যামেরনের বলেন, “আপনি সবসময় আশা করেন কিছুই হবে না। কিন্তু যখন ডাক্তার বলেন যে এটা আসলেই ক্যানসার… তখন সেটা শোনার মুহূর্তটাই সবচেয়ে কঠিন।”
পরবর্তী এমআরআই স্ক্যানে কয়েকটি ‘কালো দাগ’ দেখা যায়, তবে নিশ্চিত হন বায়োপসির পর।
চিকিৎসা হিসেবে ক্যামেরন নেন ফোকাল থেরাপি, যেখানে সুচ ব্যবহার করে ইলেকট্রিক পালসের মাধ্যমে ক্যানসার কোষ নষ্ট করা হয়। এই উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির অভিজ্ঞতা তাকে স্ক্রিনিং নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাজ্যের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ধীরগতির প্রোস্টেট ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় স্ক্রিনিং অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণেই বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ ম্যাস স্ক্রিনিং–এর বিরুদ্ধে।
কিন্তু ক্যামেরন বলেন, “পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। চিকিৎসা প্রযুক্তিতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এখন সময় এসেছে উচ্চ ঝুঁকির পুরুষদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং চালুর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করার।”
তিনি বলেন, প্রোস্টেট ক্যানসার গবেষণাসহ বিভিন্ন সংস্থা যে স্ক্রিনিংয়ের দাবি তুলছে—তা এখন বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময়।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন,“আমার সামনে একটি প্ল্যাটফর্ম আছে। এখন আমাদের ভাবতে হবে, আলোচনা করতে হবে, আর প্রয়োজন হলে পদক্ষেপ নিতে হবে।”
ক্যামেরন জানান, তিনি লর্ডস সভায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যানসার হলো প্রোস্টেট ক্যানসার। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ১১% পুরুষ জীবদ্দশায় এ রোগে আক্রান্ত হবেন, যদিও মৃত্যুহার তুলনামূলক কম।
