টাইটানিকের সোনার ঘড়ি রেকর্ড দামে বিক্রি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:৫৩, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২০:২৯, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
টাইটানিক জাহাজ থেকে পাওয়া সোনার পকেটঘড়ি ও মালিকমার্কিন ধনকুবের ও রাজনীতিবিদ ইসিডর স্ট্রাউস। ছবি:ফক্স নিউজ
শতবর্ষ আগে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া কিংবদন্তি জাহাজ টাইটানিক-এর এক ধনী যাত্রীর ব্যবহৃত সোনার পকেটঘড়ি নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে অনুষ্ঠিত ওই নিলামে ঘড়িটি বিক্রি হয় ১৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকা (১ পাউন্ড = ১৫৯.৯৫ টাকা হিসেবে)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
জাহাজডুবিতে নিহতদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন ধনকুবের ও রাজনীতিবিদ ইসিডর স্ট্রাউস। তিনি নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেসি’স ডিপার্টমেন্ট স্টোর–এর অন্যতম মালিক ছিলেন। ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কগামী টাইটানিক বরফখণ্ডে আঘাতের পর ডুবে গেলে প্রাণ হারান দেড় হাজারেরও বেশি যাত্রী।
জাহাজ ডোবার কয়েক দিন পর স্ট্রাউসের দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর সঙ্গে যে অল্প কয়েকটি ব্যক্তিগত জিনিস পাওয়া গিয়েছিল, তার মধ্যেই ছিল বিখ্যাত সুইস ব্র্যান্ড জুলস ইয়ুরগেনসেন–এর তৈরি ১৮ ক্যারেট সোনার পকেটঘড়িটি।
স্ট্রাউস–আইডা দম্পতির পরিবারের কাছে শত বছরের বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত ছিল এ মূল্যবান ঘড়ি। গতকাল শনিবার হেনরি অ্যালরিজ অ্যান্ড সন অকশনার্স কর্তৃক আয়োজিত নিলামে এটি সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইতিপূর্বেও টাইটানিক–সংক্রান্ত বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন নিলামে তুলেছে।
টাইটানিক–বিষয়ক ইতিহাসে ইসিডর ও তাঁর স্ত্রী আইডা স্ট্রাউসের নাম গভীর আবেগের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাজ ডুবতে শুরু করলে উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে আইডাকে লাইফবোটে উঠতে বলেন। কিন্তু তিনি স্বামীকে রেখে যেতে অস্বীকার করেন।
আইডার বিখ্যাত উক্তি ছিল—“যেখানে তুমি যাবে, আমিও সেখানে যাব।”এরপর স্বামী–স্ত্রী দুজনই সাগরে তলিয়ে যান। পরে ইসিডরের মরদেহ উদ্ধার হলেও আইডার আর খোঁজ মেলেনি।
নিলামে স্ট্রাউস দম্পতির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে আরও একটি মূল্যবান নিদর্শন বিক্রি হয়েছে—টাইটানিক থেকে পাঠানো আইডা স্ট্রাউসের নিজহাতে লেখা একটি চিঠি। সযত্নে সংরক্ষিত চিঠিটি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ পাউন্ডে।
টাইটানিক–ডুবে যাওয়ার ১১৩ বছর পরও সেই ট্র্যাজেডি ও মানবিকতার বহু গল্প আজও বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে দাগ কেটে আছে। আর সেই ইতিহাসেরই অংশ হয়ে উঠল ইসিডর স্ট্রাউসের সোনার ঘড়িটি—বিস্ময়কর এক মূল্যে নতুন মালিকের সংগ্রহে।
