ইউরোপে হামলার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল হামাস: মোসাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:১৬, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। ছবি : ইয়াহু
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জানিয়েছে—হামাস ইউরোপজুড়ে গোপন সেল তৈরি করে “অন-কম্যান্ড” হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইউরোপীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং প্রতিহত হয়েছে একাধিক হামলার পরিকল্পনা।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় পাওয়া যায় বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র—যা যুক্ত হয়েছে সিনিয়র হামাস নেতা বাসেম নাঈমের ছেলে মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে।
মোসাদের দাবি—কাতারে অবস্থানরত হামাসের নেতারা এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পরিচালনায় জড়িত, যদিও তারা প্রকাশ্যে এসব অস্বীকার করেন।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দাবি করেছে, ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ইউরোপজুড়ে একটি সুসংগঠিত অপারেশনাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যেখান থেকে “অন-কম্যান্ড” অর্থাৎ নির্দেশ পেলেই হামলা চালানোর প্রস্তুতি ছিল। সংস্থাটি বলছে—ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার, হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া এবং বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
মোসাদের প্রকাশ করা বিবৃতি অনুযায়ী, জার্মানি ও অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে যৌথ অভিযানে ইসরায়েলি ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির ডিএসএন নিরাপত্তা সংস্থা একাধিক পিস্তল, বিস্ফোরক ও যোগাযোগ সরঞ্জামসহ একটি অস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার উদ্ধার করে।
তদন্তে এসব অস্ত্র যুক্ত হয়েছে মোহাম্মদ নাঈম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে।যিনি হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর শীর্ষ কর্মকর্তা বাসেম নাঈমের ছেলে এবং গাজার প্রভাবশালী নেতা খলিল আল-হায়্যার ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
মোসাদের দাবি—কাতারভিত্তিক হামাস নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে এসব অপারেশন সমর্থন করে আসছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “কাতারে অবস্থানরত হামাস নেতাদের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। তারা প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও মাঠ পর্যায়ের অপারেশন এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ও সহায়তা দিয়েছেন।”
মোসাদ আরও দাবি করে, নেতৃত্বের ধারাবাহিক অস্বীকার অনেক ক্ষেত্রে দেখাচ্ছে, নেতৃত্ব হয়তো নিজেদের কর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।
এদিকে তুরস্কে হামাসঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের তৎপরতাও নজরদারির মধ্যে রয়েছে। গত নভেম্বর মাসে জার্মান কর্তৃপক্ষ বুরহান আল-খাতিব নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে—যিনি দীর্ঘদিন তুরস্কে সক্রিয় ছিলেন এবং সম্প্রতি জার্মানিতে চলে আসেন।
ইউরোপের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কেবল নিরাপত্তা অভিযানই নয়, বরং অর্থায়ন, প্রচার এবং সদস্য সংগ্রহে জড়িত চ্যারিটি, রিলিজিয়াস সেন্টার এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলোতেও ধরপাকড় শুরু করেছে।
জার্মানি ইতিমধ্যেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করেছে, যেগুলো হামাসের জন্য অর্থ জোগাড় ও মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
মোসাদ বলছে—২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে সংঘটিত ৭ অক্টোবর হামলার পর হামাস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্রুত সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা শুরু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল ইউরোপসহ বিভিন্ন মহাদেশে গোপন সেল তৈরি ও সমন্বিত হামলার সক্ষমতা গড়ে তোলা, যেভাবে ইরান ও তাদের প্রক্সিগোষ্ঠী কাজ করে থাকে।
সংস্থাটির দাবি, বিশ্বজুড়ে এখনো ডজন ডজন হামলা পরিকল্পনা তারা শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো ভেস্তে দিতে ইউরোপীয় ও অন্যান্য দেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে—ইসরায়েলি ও ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সূত্র : এনডিটিভি
