সুদানের আধাসামরিক শীর্ষ নেতার ওপর ইইউর কঠোর নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:০১, ২২ নভেম্বর ২০২৫
দারফুরে সার্বিক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সাম্প্রতিক নৃশংসতার অভিযোগে আরএসএফের শীর্ষ হুকুমদার আবদেল রহিম হামদান দাগালোকে লক্ষ্য করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)–এর হাতে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আরএসএফের শীর্ষ উপনেতা আবদেল রহিম হামদান দাগালো–র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত মূলত দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে সংঘটিত ভয়াবহ সহিংসতাকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়।
এপি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাগালো আরএসএফের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা এবং এর প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর (হেমেদতি) ভাই। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
ইইউর ফরেন অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়—গত মাসে আরএসএফ এল-ফাশের কৌশলগত শহরটি দখল করে,দীর্ঘ ১৮ মাস অবরোধে রাখার পর শহরটি পতনের মুখে পড়ে,দখল অভিযানে শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়, কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেয়।
ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, “এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হলো—যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধে দায়ী, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”
আরএসএফের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না এলেও তারা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায়। তবে দাবি করে—“শান্তির পথে প্রকৃত বাধা সেনাবাহিনী।”
ইইউর বিবৃতিতে আরএসএফের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে সেগুলোকে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:বেসামরিকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা, জাতিগত ভিত্তিতে টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড, পদ্ধতিগত যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, খাদ্যকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, ত্রাণ সহায়তা প্রবেশাধিকার অস্বীকার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী—এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ হাজার মানুষ নিহত,বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি,মানবিক সংস্থাগুলো মনে করে প্রকৃত মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
কায়া কালাস সতর্ক করে বলেন, “এল-ফাশের পতন সুদানের যুদ্ধে আরেকটি বিধ্বংসী অধ্যায়ের সূচনা।”
আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় ২০২৩ সালে।
২০১৯ সালের গণবিপ্লবের পর দু’পক্ষই দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পুরোনো ক্ষমতার টানাপড়েন ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
